দেশের উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। বিশেষ করে চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন কাহিল হয়ে পড়েছে। শীতবস্ত্র না থাকায় অভাবী এসব পরিবারের লোকজন শীত মোকাবেলায় গণঅগ্নিকুন্ড ব্যবহার করছেন। আর এতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। গ্রামীণ জনপদে খড়কুটো জালিয়ে শীত নিবারণ করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হচ্ছেন শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। গত দুই দিনে রংপুর মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন দু’জন। আর দগ্ধ হয়ে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করছেন অন্তত ৩০ জন।
গতকাল বুধবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পোড়া শরীর নিয়ে বার্ন ইউনিটে ছটফট করছে সাত বছরের শিশু সাজ্জাদ। ৩০ ডিসেম্বর বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খড়কুটোর আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হন তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের কৃষক নুর মোহাম্মদের ছেলে সাজ্জাদ। মা সুমি আখতার অবুঝ সন্তানকে নিয়ে দুঃসহ দিন পার করছেন। ঘরে মোটাভাতের অভাবের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মোটা কাপড়ের। বরফগলা ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছেন তারা। শীত থেকে বাঁচতে খড়কুটো ও চুলার আগুনেই ভরসা তাদের। সাজ্জাদের মত দগ্ধ আরো অনেক শিশুই আছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। একই ওয়ার্ডে ছিলেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ির ৮৫ বছরের তারামনি রায় ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার আশা রানী (৪৫)। তারা দু’জনেই শীত নিবারণ করতে গিয়ে খড়কুটোর আগুনে দগ্ধ হয়েছিলেন। শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাদেরকে বাঁচানো যায়নি। গত সোম ও মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তাদের।
বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহিন শাহ জানান, শীত নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে ঘটছে এমন দুর্ঘটনা। দগ্ধদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গত শনিবার থেকে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩০ জন। এদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হাসপাতালের ১৪ শয্যার বার্ন ইউনিটসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে দগ্ধ রোগেীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১০ জনকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে ঢাকায়।
ডা. শাহিন শাহ আরো জানান, চিকিৎসাধীন রোগীদের বেশিরভাগের শরীরের নিচের অংশ ৩০ থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। তবে প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নগর গবেষক জাকিউর রহমান বলেন, শীতের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ পুড়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। টেকনোলজির এ যুগে মানুষ তাদের পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারেনি বলেই ঘটছে আগুন দূর্ঘটনা। এজন্য গ্রামীণ জনপদে তাপমাত্রা নিরোধক প্রযুক্তি’র ঘর নির্মাণসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশাসনসহ সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, তখনই আগুনে মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে।









