- বিমান-স্থলবন্দরগুলোতে সতর্কতা
- সব যাত্রী আসবে স্ক্রিনিংয়ের আওতায়
করোনা মহামারির মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ‘মাংকিপক্স’। বিশ্বের অন্তত ১৪টি দেশে মাংকিপক্স শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার এই সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশে মাংকিপক্সের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব বিমান ও স্থলবন্দরে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংকিপক্সের জন্য এখনই কোন ভ্যাকসিনের প্রয়োজন নেই। তবে তারা বলছেন, ভাইরাসটি প্রতিরোধ করার জন্য বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশে একসময় গুটিবসন্ত দূরীকরণের জন্য টিকা দেয়া হতো। আন্তর্জাতিক গবেষকরা বলছেন গুটিবসন্তের টিকা নিলে তা মাংকিপক্সের বিরুদ্ধেও ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দিয়ে থাকে। কারণ এ দুটি ভাইরাসের অনেক মিল আছে।
দেশের সব বিমানবন্দরে সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান। সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সব যাত্রীকে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, মাংকিপক্স নিয়ে ঢাকাসহ দেশের সব বিমানবন্দর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে আসা সব যাত্রীকে স্ক্রিনিং করা হবে। যাত্রীদের হেলথ ডিক্লারেশন ফরমে মাংকিপক্স সংক্রান্ত তথ্যও দিতে হবে। যাত্রী মাংকিপক্সে আক্রান্ত কিনা, লক্ষণ আছে কি না, আক্রান্ত কোনও দেশে ভ্রমণ করেছে কি না—এমন তথ্য জানতে চাওয়া হবে। এছাড়া বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসকরাও যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে যাদের ফুসকুড়ি দেখা যায় এবং যিনি সম্প্রতি মাংকিপক্সের নিশ্চিত কেস আছে এমন দেশগুলো ভ্রমণ করেছেন, অথবা এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন যিনি নিশ্চিত অথবা সন্দেহজনক মাংকিপক্স রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, এমন রোগীদের সন্দেহজনক রোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সন্দেহজনক ও লক্ষণযুক্ত রোগীকে কাছের হাসপাতালে বা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অধিদপ্তর বলছে এ বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ-নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা আইইডিসিআরকে তথ্য জানাতে হবে।
এতদিন পর্যন্ত মাঙ্কিপক্সের আচরণ অনুমান করা সহজ ছিল। নাম শুনে বানরের কথা মনে হলেও আসলে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসটি পাওয়া যায় ইঁদুরের শরীরে।
ভাইরাসটির প্রাকৃতিক আবাসভূমি পশ্চিম আফ্রিকা এবং রেইনফরেস্টে বাস করে এমন কেউ হয়ত আক্রান্ত ইঁদুরের সংক্রমণে এলে অসুখটি ছড়ায়।আক্রান্তদের ত্বকে বসন্তের মতো দেখা দেয়। ফোস্কার মতো তৈরি হয়ে ফেটে যায় এবং চামড়া উঠতে থাকে।
প্রথমবারের মতো এমন আক্রান্ত এমন ব্যক্তি পাওয়া যাচ্ছে যাদের সঙ্গে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। তারা কিভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।
তবে এটি যৌন সংসর্গের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করছেন অনেকে। কারণ, বেশিরভাগ আক্রান্তের যৌনাঙ্গ এবং এর আশপাশে ঘায়ের মতো পাওয়া যাচ্ছে। আক্রান্তদের অনেকেই সমকামী ও উভকামী কম বয়স্ক পুরুষ।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিজ্ঞান বিষয় ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক স্যার পিটার হরবি বলছেন, ‘আমরা খুব নতুন এক ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। যা খুব বিস্ময় এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো।’ তিনি বলেন, আমরা দ্বিতীয় এক কোভিড মহামারিতে পড়তে যাচ্ছি ব্যাপারটা এমন না। তবে ভাইরাসটি জেঁকে বসার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নেবার কথা বলছেন তিনি।
লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের অধ্যাপক জিমি হোয়াইটওয়ার্থ বলছেন, ‘আমার মনে হয় না সাধারণ মানুষের এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। তবে আমরা এটি সম্পর্কে পুরোটা উদঘাটন করে উঠতে পারিনি এবং বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’
আনন্দবাজার/শহক









