- খাতটি নিয়ে স্বপ্ন দেখাতে পারেনি সরকারও
পর্যটনশিল্প কর্মসংস্থানের একটি বৃহৎ জায়গা। অথচ এখনও তরুণদের মাথায় ঢুকানো সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগে পড়ালেখা করলেও পর্যটনশিল্পে তাদের তেমন কর্মসংস্থানে আসতে দেখা যায় না। সাধারণত গ্রামের বা শহরের অশিক্ষিত যুবকরাই এ পেশায় আসছেন। বিভিন্ন পর্যটকস্থানে গিয়ে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। তাছাড়া সরকারও তরুণ-সমাজের মধ্যে খাতটি নিয়ে স্বপ্নবুনন করতে পারেনি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট ২০২০’ শীর্ষক জরিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আট বিভাগীয় সদর দপ্তর, ৫৬টি জেলা সদর এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অবস্থিত হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৮ কর্মী কাজ করছে। এসবের মধ্যে নিয়মিত কর্মী প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ও খণ্ডকালীন প্রায় ১৪ হাজার। নিয়মিত কর্মীদের মধ্যে পুরুষ ৯২ এবং নারী ৮ শতাংশ। আর খণ্ডকালীন কর্মীদের মধ্যে পুরুষ ৮১ ও নারী প্রায় ১৯ শতাংশ।
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের গবেষণা মতে, ২০১৩ সালে পর্যটনখাতে ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের মোট কর্মসংস্থানের ১ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৪ সালে এখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো ৪ শতাংশ বাড়ার কথা ছিল। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হয় প্রতিবেদনটিতে। সে হিসাবে ২০২৪ সালে মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে পর্যটনখাতের অবদান দাঁড়াবে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
তাছাড়া পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সেক্টর, যেমন: সড়কপরিবহন, হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, নৌপরিবহন, এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম থেকে প্রতিবছর প্রচুর রাজস্ব আয় করে থাকে বিভিন্ন দেশ। পর্যটনশিল্পের জিডিপিতে প্রত্যক্ষ অবদানের ভিত্তিতে ১৭৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের অবস্থান ১৪২তম। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ০২ ভাগ আসে পর্যটনখাত থেকে।









