- মধু সংগ্রহে লিচু-বাগানে হাজারো মৌবাক্স স্থাপন
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে লিচু ফুল থেকে ৪০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মাঠে নেমেছে মৌয়ালরা। লিচু বাগানগুলো জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে হাজারো মৌ-বাক্স। সারি সারি সাজানো ঘর আকৃতির কাঠের তৈরি ছোট ছোট বাক্স। লিচু ফুল থেকে মধু আহরণের পর মৌমাছি ছুটছে আপন নীড়ে। মৌয়ালরা এক সপ্তাহ পর শুধু চিরিরবন্দর উপজেলায় লিচু ফুল থেকে ৫০ হাজার কেজি মধু বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে সংগ্রহ করবেন মৌয়ালরা।
কৃষি অফিস জানায়, চিরিরবন্দরে ১২টি ইউনিয়নে প্রায় ৬শ’ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। আর লিচুবাগান রয়েছে ৬ হাজার ২৫৮টি। মধু সংগ্রহের জন্য মৌয়ালরা মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন ৬ হাজার ৫০০টি। বাগান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি লিচু-বাগানে ২০০টি করে বাক্স রয়েছে।
টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলা থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসা জোময় আলী বলেন, একটি লিচু-বাগানে ৩০০ বাক্স রেখেছি। মৌমাছিরা ঝাঁক বেঁধে লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করে নিজ নিজ বাক্সের ভেতরে এসে মধু জমা করে।
তিনি আরও জনান, প্রতি বছর আমরা মধু সংগ্রহ করতে আসি। সেরা বাগান থেকে আমরা মধু সংগ্রহ করি। যে বাগানে ফুল বেশি, তেমন বাগানে বাক্স বসাই। মৌমাছির চাকগুলোর বাক্স প্রথমে বাগানে রেখে দেওয়া হয়। প্রতিটি লিচুর বাগানে দেড়শ বাক্স রাখা রয়েছে। লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করার পর মৌমাছিরা বাক্সের ভেতরে চাকে মধু জমা করে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বাক্সে পাঁচ কেজি মধু জমা হয়।
লিচু চাষি আব্দুল কুদ্দুস জানান, লিচুর মুকুল থেকে মৌমাছিরা যদি মধু সংগ্রহ করে, তাতে পরাগায়ন হলে লিচুর ভালো ফলন হয়। এতে কীটনাশক তেমন দরকার হয় না। তাই বিনামূল্যেই মৌয়ালদের মৌমাছির বাক্স বাগানে বসাতে দেই।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা জানান, লিচু ফুল ও মুকুলে মৌমাছি বসলে পরাগায়ন ভালো হয়, রোগবালাইও অনেকটা কম হয়। সে ক্ষেত্রে অনেক বাগানে গুটি আসার পর কীটনাশক দরকার হয় না। এতে লিচু-বাগানে ভালো ফলন হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে।









