ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মুষলধারে অতিবর্ষণ হয়েছে। রোববার রাত থেকে গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত একটানা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হয়। এরই মাঝে দুপুরে জোয়ারে নদ-নদীর পানি বাড়ে দুই থেকে আড়াই ফুট। একদিকে অতিবর্ষণ, অপরদিকে জোয়ারের পানি বাড়ায় উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে ফসলের ক্ষেতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চরইমারশন গ্রামের বেড়িবাঁধের বাহিরে বিস্তীর্ণ তরমুজ ক্ষেত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। চাষীরা পাওয়ার পাম্প বসিয়ে সেই পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছে। তবে বৃষ্টিতে আবারও পানি জমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, পাকাআমন ক্ষেতের চিত্রও করুণ। অতিবর্ষণ ও ঝড়ো বাতাসে হেলে পড়েছে পাকাধান। এমনচিত্র শুধু চরইমারশনেই নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৬ ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় আমন ধান এবং আগাম আবাদ করা তরমুজসহ রবিশস্যের ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, ঝড়ো বাতাসসহ টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬৫ হেক্টর আমন ধান। বেড়িবাঁধের বাহিরে আবাদ করা ৩৫০ হেক্টর তরমুজের ১২০ হেক্টরে পানি জমে গাছ আক্রান্ত হয়েছে। খেসারি ডাল ২১০ হেক্টরের মধ্যে ৮৫, শীতকালীন সবজি ১২০ হেক্টরের মধ্যে ২৫ এবং ধনিয়া ১৮ হেক্টরের মধ্যে ৩ হেক্টর আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিপূর্ণ তথ্য দেওয়া যাবে। বৃষ্টি থামলে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করলে কৃষকদের ক্ষতি কমবে। তবে এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









