ঝিনাইদহ জেলায় এই প্রথম একটি গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। গ্রামটির নাম আনন্দবাগ। গ্রামবাসির সচেতনতায় স্থানীয় উদ্যোগে সতর্কতা স্বরুপ এই কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে প্রশাসন। জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই আনন্দবাগ গ্রাম। গ্রামটিতে প্রবেশের মাত্র তিনটি রাস্তা, আর সেই তিন রাস্তার মোড়েই বসানো হয়েছে তল্লাসী চৌকি। যারাই গ্রামে প্রবেশ করছেন তাদের পরিচয় এবং প্রয়োজন নিশ্চিত হয়ে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে প্রবেশের । সঙ্গে জীবানুনাশক দিয়ে গোটা শরীর স্প্রে করে দিচ্ছে। আর গ্রামের মানুষগুলোর প্রয়োজন ছাড়া দেওয়া হচ্ছে না বাহিরে আসতে। জরুরী প্রয়োজন বুঝে বেরুতে দিলেও ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে জীবানুনাশক। আর গ্রামের হতদরিদ্র প্রায় ২০ জনের তালিকা করে তাদের বাড়িতে খাবার পৈৗছে দিচ্ছেন গ্রামবাসি। পালাক্রমে গ্রামের লোকজন এই তল্লাসী চৌকির দায়িত্ব ছাড়াও গ্রামটি লকডাউন করতে যা যা করণীয় সবই করা হচ্ছে। গত তিনদিন তারা এভাবে নিজেদের গ্রামটিকে সুরক্ষা রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামবাসির দাবি করোনাভাইরাসের প্রকোপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত চলবে তাদের এই কার্যক্রম।
সরেজমিনে আনন্দবাগ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পাইকপাড়া মোড়ের তল্লাসী চৌকিতে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষক রুহুল আমিন। তাদের কাছে পৌছানো মাত্র দুই যুবক ছুটে আসেন। কোনো কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই জীবানুনাশক দিয়ে সমস্ত শরীর স্প্রে করে দেওয়া হলো। এরপর সাংবাদিক শুনতেই যুবকদ্বয় বললেন কিছু করার নেই এভাবেই তারা দায়িত্ব পালন করছেন। যিনিই আনন্দবাগ গ্রামে প্রবেশ করবেন তাকেই এই স্প্রে’র মুখোমুখি হতে হবে।
আনন্দবাগ গ্রামের তল্লাসী চৌকিতে কথা হয় শিক্ষক রুহুল আমিন ও আব্দুল ওয়াহেদের সঙ্গে। তারা জানান, ২৫ মার্চ তারা গ্রামের মসজিদে বসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি পেয়ে ২৬ মার্চ থেকে আনন্দবাগ গ্রামটি স্থানীয় ভাবে লকডাউন করে দিয়েছেন। অপরদিকে , আনন্দবাগ গ্রামে ১৪০ টি পরিবারে দুই হাজারের বেশি মানুষের বসবাস করেন। গ্রামে প্রবেশের তিনটি রাস্তা রয়েছে। সবগুলো রাস্তার মোড়ে তাদের ছেলেরা কাজ করছেন। মোড়ে বাঁশ বেঁধে চলাচল নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে। সেখানে পটাশ ও স্যাভলন মিশ্রিত পানি, সাবান আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে বসে আছেন যুবকরা। কেউ গ্রামে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে স্প্রে করানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রাণী সাহা জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। ওই গ্রামের বাসিন্দা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের চিকিৎসক সুলতান আহমেদ বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন। যেহেতু সারা দেশে লকডাউন চলছে, সেখানে গ্রামবাসির এই উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। তবে সতর্ক থাকতে হবে কোনো ভাবেই যেন জরুরী প্রয়োজন বাঁধাগ্রস্থ না হয়।
আনন্দবাজার/এফআইবি









