কোনো প্রকার দরপত্র আহবান ছাড়াই পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর দূর্গাদাস স্কুল এন্ড কলেজের গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে কলেজ অধ্যক্ষ এবং সভাপতির বিরুদ্ধে।
নতুন স্কুল ভবন তৈরির অজুহাত তুলে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে কলেজের দীর্ঘ পুরানো কয়েকটি গাছ কাটা হলেও কোনো প্রকার নিয়ম কানুন মানা হয়নি। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার মোহাম্মদ রায়হান গাছ কাটা বন্ধ করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, গর্ভনিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক গাছগুলো কাটা হয়েছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিন হাজিরার ভিত্তিতে কয়েকজন শ্রমিক কলেজ ভবনের পেছন থেকে গাছ কাটছেন। ধূলাউড়ি গ্রামের তজু প্রামানিক নামে এক ব্যক্তির কাছে ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় বেশকিছু মেহগণি, আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১৪টি গাছ বিক্রি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকে প্রায় ৭টি বড় গাছ কাটা হয়। পরে ইউএনও’র নির্দেশে গাছ কাটা বন্ধ হয়।
জানা গেছে, হরিপুর দূর্গাদাস স্কুল এন্ড কলেজ এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একই জায়গায় অবস্থিত এবং একই নিয়মে পরিচালিত হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘ পুরানো ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় অতিসম্প্রতি সেখানে একটি নতুন ভবনের অনুমোদন হয়। সেই কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আলী হায়দার সরদার বলেন, গর্ভনিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক গাছ বিক্রির পর ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া হয়েছে। তবে সোমবার ইউএনও স্যার গাছ কাটতে নিষেধ করেন এবং তার কাছে একটি আবেদন করতে বলেন বলে জানান তিনি।
গর্ভনিং বডির সভাপতি হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বলেন, গর্ভনিং বডি একটা বিক্রয় কমিটি করে দিয়েছিল। দর যাচাই করে গাছ বিক্রি করা হয়েছে। তবে ইউএনও স্যার বলার পরে গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, দরপত্র ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি করার নিয়ম নেই। জানার পর গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
আনন্দবাজার/এফআইবি









