দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য ত্রাণ চাওয়ায় আশেকে এলাহী নামের এক যুবকে পিটিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১০নং দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। চৌকিদার দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে এনে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে ওই যুবককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি এই যুবক।
ইতোমধ্যে মারধর ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করার ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পরে এই ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিয়ে বেশি সক্রিয়তা দেখালে তার বিরুদ্ধে পঞ্চাশটির বেশি মামলার হুমকি দেন চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীম।
ভুক্তভোগি যুবক আশেকে এলাহী জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় ১১০ জনকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছি। এরপর স্থানীয় আরও অনেকে আমার আছে এলে আমি তাদের ত্রাণ সামগ্রী দিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খাঁনকে অনুরোধ জানাই।
ভুক্তভোগি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এলাকায় ৭৯ জন দরিদ্র ও দিনমজুরের একটি তালিকা করে স্থানীয় মেম্বারের কাছে আবেদন করা হয়। সেই বিষয়টি মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে যেতে বলে। পরে চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ায়চেয়ারম্যান আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে। আমারে বলে আমি কি চেয়ারম্যান হমু নাকি, এমপি হমু নাকি। আমার এতো দরদ কেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করার অভিযোগ এনে চারজন চৌকিদার দিয়ে তাকে তুলে আনতে পাঠান চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীম।
আশেকে এলাহী আরও জানান, চৌকিদাররা বলে আমাকে চেয়ারম্যান ডেকেছে। আমার তালিকা অনুযায়ী ত্রান দিবে। পরে আমি চেয়ারম্যানকে ফোন করি। তিনি আমাকে যেতে বলেন। ফোন চৌকিদারদের দিলে তিনি আমার সামনে চৌকিদারদের বলেন আমার যেন পা মাটিতে না পড়ে সেভাবে তুলে নিয়ে যেতে। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে বন্দী করে তাকে দফায় দফায় তিন বার মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই যুবক।
বিষয়টি অস্বীকার করে গুনাইঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীম জানান, পরিষদে কাউকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি। যাকে পরিষদে আনা হয়েছে সে আমার ভাতিজা। আমি তাকে কোনো মারধর করিনি।
আনন্দবাজার/শহক









