আমি বাঁচতাম না, আমার পেট কাইট্যা বংশ বাইর করো। না হয় নির্বংশ হয়ে যাবে। কথাগুলো বলছিলেন মৃত্যু পথযাত্রী ফাতেমা (২৬)। রান্নাঘরের গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লেগে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চোখের সামনেই মারা গেছে স্বামী ও সন্তান। পাঁচ মাসের অন্তঃস্তত্ত্বা ফাতেমা চাইছিলেন যেন শেষ সম্বল পেটে থাকা সন্তান অন্তত বাঁচে।
ঘটনাটি ঘটেছে আশুলিয়া থানার আশুলিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর চালা গ্রামে। এক ছেলে আর স্বামী নিয়ে ঐ এলাকার শহীদ হাজির বাড়িতে বসবাস করতেন ফাতেমা। ফাতেমা ও তার স্বামী কাশেম আশুলিয়ার আলাদা দুটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
ফাতেমার ভাই আবু ছাইদ জানান, মৃত্যুর আগে কাশেম ও অগ্নিগদ্ধ ফাতেমা তাকে বলেছেন, ওই বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ থাকলেও সেটি বৈধ ছিল না। তাই ফাতেমা দম্পতি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি বাসার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে গ্যাস আসতে থাকে। ফাতেমা ওই গ্যাস দিয়ে রান্নার কাজ চালাতেন। কিন্তু গত তিন-চারদিন যাবৎ গন্ধ ছড়ালে ফাতেমা বুঝতে পারেন গ্যাস লাইন দিয়ে গ্যাস লিকেজ হচ্ছে। বিষয়টি তিনি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে (নাম বলতে পারেননি) জানালে সে এসে মিস্ত্রি দিয়ে লাইন মেরামত না করে নিজেই সাবান লাগিয়ে গ্যাসের লিকেজ বন্ধ করে দিয়ে যান।
এরপর গত সোমবার ভোরে ফাতেমা রান্নার আয়োজন করেন। তখন তাঁর স্বামী ও সন্তান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। যাবতীয় আয়োজন শেষ করে ফাতেমা বেগম দিয়াশলাই কাঠি জ্বালানোমাত্রই বিকট শব্দ করে পুরো কক্ষে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই শিশু আলআমীন মারা যায়। বিকট শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা এসে অগ্নিদগ্ধ আবুল কাশেম ও ফাতেমাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে নেওয়ার পথেই কাশেমের মৃত্যু হয়। ফাতেমাকে এনাম মেডিকেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষে অর্থ যোগান দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় স্বজনরা তাঁকে গত মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এনে ভর্তি করে। সেখান থেকে ফাতেমাকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিউটে স্থানান্তরের জন্য বলা হয়েছিল। পরে বিকেলে মারা যান ফাতেমা। রাতেই জানাযা শেষে ফাতেমার লাশ স্বামী ও সন্তানের পাশেই দাফন করা হয়েছে। ফাতেমার কথাই সত্যি হলো। রইলো না বংশ।
তিনজনকেই হারিয়ে ফাতেমা ও কাশেমের পরিবার দিশেহারা। পুরো এলাকা শোকে আচ্ছন্ন। কেউই এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছে না। তারা ওই বাড়ির মালিকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









