- চর ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ গর্ভনরের
- প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
- প্রান্তিক চাষীরা বেশি ফসল ফলাবে
বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১০ শতাংশ চরভূমিতে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। যাদের বেশির ভাগই কৃষিজীবী এবং মৎসজীবী। এসব মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য চর ফাউন্ডেশন বা চর উন্নয়ন বোর্ড গঠনের দাবি করেছে ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স।
গতকাল বুধবার নগরীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘চরের মানুষের জন্য ভূমি: সংস্কার ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সংলাপে এসব দাবি তুলে ধরেন বক্তারা। গবেষণা ভিত্তিক সংগঠন সমুন্নয় এবং চরের মানুষের উন্নয়নে কর্মরত জোট ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স উদ্যোগে এ জাতীয় সংলাপ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।
ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও অর্থনীতিবিদ আতিউর রহমান বলেন, চরের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার। চরের জন্য যে তহবিল রয়েছে তা বাস্তবায়ন দরকার। এসব চরের উন্নয়ন জরুরি। আমরা দেখেছি একটা চরে সাবমেরিনের ক্যাবল দিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এটা ভালো উদ্যোগ, সব চরে বিদ্যুৎ দেওয়া দরকার। তাছাড়া চরাঞ্চলে জমি নিয়ে আধিপত্য নিরসনে আরো সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এজন্য চর ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দেন সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান।
সেমিনারে তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় বলেন, গত ৫ দশকে আমাদের কৃষি জমি কমেছে প্রায় এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। চরের জীবন-মানের উন্নয়ন বিশেষ করে বিগত ১০-১২ বছরে আলাদা গতি পেয়েছে। তবে দেশের অর্থনীতি, মানুষের আয় ও জীবনমান যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তার তুলনায় চরাঞ্চল এখনো অনেকটাই পিছিয়ে আছে। আর চরের কৃষির উন্নয়নের প্রশ্নের জায়গা থেকে চরের মানুষের ভূমি অধিকার একটি প্রধানতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম.এ মান্নান বলেন, নানাভাবে চরের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। আমি হয়তো এমপি আছি খাস জমি দখল করছি, আমি কোনো এনজিও মালিক জমি দখল করছি, প্রফেসর আছি চরের খাস জমি দখল করছি। যারা এসব করে তারা অনেক শক্তিশালী। এরা মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে আছে। মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে বুঝিয়ে এসব খাস জমি উদ্ধার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এখন কিন্তু আমরা ঔপনিবেশিক আমলে বসবাস করছি না। একই চক্র হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করবে এটা হতে পারে না। এ সময় মন্ত্রী চরের সমস্যাকে পুরোনো আখ্যা দিয়ে ভালো মানুষ দিয়ে সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে চর ফাউন্ডেশন গঠন করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, চরে বসবাসরত বেশিরভাগ চরবাসীই স্থায়ী বাসিন্দা নন। অস্থায়ী হিসেবেই তারা পরিচিত। কেননা চরের বেশিরভাগ জমিতে বহুবিধ জটিলতার কারণে তাদের মালিকানা নেই। আবার নদী শিকস্তি-পয়স্তি আইনের জটিলতার কারণেও চরের ভূমিতে এমন একটা অবস্থা বিরাজমান। চরের কৃষি জমিতে চরে বসবাসরত প্রান্তিক চাষীদের অধিকার নিশ্চিত করা গেলে চরে আরও বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। সেমিনার থেকে ৪ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- ১. চরভূমি ব্যবহারের একটা নীতিমালা দ্রুত করা প্রয়োজন। ২. চরের প্রকৃত ভূমিহীনদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে ডাটা বেইস করা প্রয়োজন। ৩.চরের মানুষের উন্নয়নে চর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন/ চর বোর্ড নামে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন করা প্রয়োজন। ৪. চরের কৃষক ও কৃষাণীদের জন্য কৃষি কার্ড-এর ব্যবস্থা করা।
সংলাপ আয়োজনে সহায়তা করে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’। এতে সভাপতিত্ব করেন আতিউর রহমান। বক্তব্য দেন- পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবীর, কৃষি বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য লুৎফুন্নেছা খান এবং আইন ও বিচারবিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন।
আনন্দবাজার/শহক









