টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম থাকায় ও ভালো ফলন হওয়ায় খুশি কৃষকরা। আউশ ধান চাষের খরচ বোরো ধান চাষের চেয়ে অনেক কম। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় আউশ ধান চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বেশি জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে বলে জানান তারা। এ ধান চাষের উপযুক্ত সময় হচ্ছে এপ্রিল থেকে মে মাসের মাঝামাঝি। এ ধান রোপণের ১০৫ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে কাটা ও মাড়াই করা যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় আউশ ধানের আবাদ হচ্ছে ৩০৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২০ টন। নিয়মিত পরিদর্শন ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রুহুলী, অলোয়া ইউনিয়নের ভারই ও চর নিকলা, ফলদা ইউনিয়নের গারাবারি ও ধুবলিয়া, অর্জুনা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় আউশ ধান চাষ করেছে কৃষকরা। মাঠ জুড়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালি রংয়ের পাকা আউশ ধান। এরই মধ্যে কোন কোন এলাকার কৃষকেরা আউশ ধান কাটতে শুরু করেছে। তাদের বাড়ি বাড়ি চলছে ধান মাড়াই উৎসব। ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষাণ-কৃষাণীরা। চলতি বছরে আউশের ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকরা।
গোবিন্দাসী গ্রামের কৃষক তারেক ও বরকতপুর গ্রামের নুরজাহান বলেন, আমরা প্রত্যেকে ২ বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করেছি। বোরো ও আমন ধানের চেয়ে আউশ চাষে খরচ অনেক কম। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যায়। প্রতি মণ আউশ ধান ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফলদা ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ হোসেন ও ইনছান আলী বলেন, বোরো ও আমন ধান চাষের পর কয়েক মাস আমাদের জমি পতিত থাকতো। জমি ফেলে না রেখে কৃষি অফিসের পরামর্শে আমরা জমিতে আউশ ধান লাগিয়েছি। আমাদের মতো আরো অনেক কৃষক এই ধান চাষ করেছে। আশা করি ভালো ফলন পাবো ইনশাল্লাহ।
অর্জুনা ইউনিয়নের কৃষক শাহ জামাল বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আউশ ধান চাষ করতে বীজ ও সার পেয়েছি। আশা করি ভালো লাভবান হবো।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবির বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর আউশের চাষ বেশি হয়েছে। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আউশ ধান চাষের জন্য কৃষককে উৎসাহ সহ বিনামূল্যে বীজ ও সার এবং মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, এবছর উপজেলায় ৩০৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। যার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২২০ মেট্রিকটন। বোনাস ফসল হিসেবে আউশ ধান পেয়ে কৃষকরা খুবই আনন্দিত। কৃষকরা লাভবান হলে সামনের বছর আউশ ধানের চাষ আরও বাড়বে বলে আশাবাদী।









