রংপুরে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসব। রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে পাঁচ দিনব্যাপি জাতীয় পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্টপোষকতায় রংপুরে প্রথমবারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদ।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ গড়তে প্রতিটি জায়গায় সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে রুখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। জনগণের মাধ্যমে প্রত্যেকটি অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দিতে হবে। কোনো সংস্কৃতিকর্মী জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত নয়। সকল পেশার মানুষের মধ্যে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হবার প্রবণতা দেখা গেলেও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে এটা নেই। এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়নি।
বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিরা। পরে উদ্বোধক হিসেবে জাতীয় পিঠা উৎসব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট নাট্যজন খন্দকার ম. হামিদ বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় পনেরো বছর ধরে আমরা এ ধরনের উৎসব করে আসছি। কয়েক বছর ধরে ঢাকার বাইরেও জাতীয় পিঠা উৎসব করা হচ্ছে। রংপুরের আগে আরও ছয়টি বিভাগে উৎসব করা হয়েছে। আমরা চাই পিঠা শিল্পকে নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে। যারা পিঠা বুনে তারা শিল্পী, আমাদের প্রত্যেকটি মা-বোনের মধ্যে এ শিল্প রয়েছে।
উৎসবে রংপুর বিভাগীয় আহ্বায়ক বিপ্লব প্রসাদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য, রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম, রংপুর বিভাগীয় সদস্য সচিব আশরাফুল আলম আল-আমিন প্রমুখ।
ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো রংপুরে জাতীয় পিঠা উৎসব হচ্ছে। পাঁচ দিনের এ উৎসবে ৩০টি স্টল জুড়ে রয়েছে বাহারি নামের পিঠার পরসা। উৎসব প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। পিঠা উৎসবের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মন মাতাতে প্রতিদিনই থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ উৎসব থেকে সেরা পাঁচ পিঠাশিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।









