প্রতি শুক্রবার দুপুরে মাদারীপুর শহরের পৌরসভা বাজারে সৌখিন কবুতর প্রেমিকদের হাট বসে। রঙ-বেরঙের নানা প্রজাতির কবুতর নিয়ে আসেন সৌখিন কবুতর প্রেমিকরা। কেউ আসেন কিনতে কেউ আবার আসেন বিক্রি করতে। তবে এরা সবাই শখের বশে কবুতর পালন করেন। কবুতর হাটে শিশু, কিশোর, যুবক এমনকি বয়স্করাও আসেন। এদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষ। হাটে ২শ’ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের কবুতর মেলে।
ব্ল্যাকশাটিল, কালোদোম, ঘিয়াচুন্নী, সিরাজী, সবজি, গিরিবাজ, সবুজগলা, লালবোম্বাই, শুয়াচন্দন, চিল্লা, চুইন্না, টেডি, ক্যাপাসিটার, রেসার, ব্ল্যাক রেসার, আউল, বিউটি হোমা, বাগদাদী হোমা, পুতুল গইরাসহ দেশী কবুতরের দেখা মিলবে মাদারীপুর শহরের পৌরসভা বাজারে শুক্রবার দুপুর থেকে। মাদারীপুরের সৌখিন কবুতর প্রেমিকদের একমাত্র কবুতর হাটটি জমজমাট হয়ে উঠে এসব কবুতরে। মাদারীপুর সৌখিন কবুতর প্রেমিকদের নিয়ে ২০১১ সালে গঠিত হয় পিজন এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন। পরবর্তীতে এই সংগঠনটি বাজারটিতে স্বল্প-পরিসরে একটি কবুতর হাট শুরু করেন। আস্তে আস্তে সেই হাটে এখন মাদারীপুর জেলার পাশাপাশি পাশর্^বর্তী জেলা থেকেও আসেন কবুতর প্রেমিকরা। কেউ আসেন কিনতে আবার কেউ আসেন বিক্রি করতে। হাটের বিস্তৃতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌখিন কবুতর প্রেমিকের পাশাপাশি অনেক পাইকারও আসেন হাটটিতে। জনপ্রিয় কবুতর হাটটিতে দুইশ’ টাকা থেকে মিলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দামের কবুতর।
কবুতর প্রেমিক সিয়াম হাওলাদার জানান, প্রতি শুক্রবার এই হাটে অনেক কবুতর আসে। এখানে অনেক কমদামে বিভিন্ন বাহারী কবুতর পাওয়া যায়। তাই শ্রক্রবার হলেই এখানে চলে আসি কবুতর কেনার জন্য। পাচখোলা ইউনিয়নে পশ্চিম পাচখোলা গ্রামের ১৯ বছরের কিশোর কবুতর প্রেমিক জাকির হোসেন রনি জানান আমি আজ এখানে এসেছি আমার প্রিয় কবুতর টি বিক্রি করার জন্য আমার এই কবুতরের নাম হচ্ছে লক্ষা যাকে অনেকে ময়ূও বলেও চিনে। এ কবুতরের দাম হচ্ছে ১ হাজার টাকা চাচ্ছি ৯শ’ টাকা হলে বিক্রি করবো। আমার কাছে কিছু কবুতর আছে যাকে লালচিড়া নামে পরিচিত এ কবুতর ৪ হাজার টাকা করে দাম চাচ্ছি সাড়ে ৩ হাজার টাকা হলে বিক্রি করবো। আমি শখের বিষয়ে কবুতর লালন পালন করে থাকি।
কবুতর ব্যবসায়ী সানোয়ার জানান আমার কাছে কালদোম, লক্ষা, শিরাজী,ক্যাপাসিডার, বোম্বাইসহ অনেক ধরণের কবুতর আছে। বর্তমানে আমার কাছে ৮শ’ কবুতর আছে এ কবুতর আমি লালন-পালন করে বিক্রি করি। একে জোড়া কবুতর ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা করে বিক্রি করি। এখানে আমরা অনেক সুবিধা পাই এখানে বিক্রি করলে কোন খাজনা দেওয়া লাগে না।
মাদারীপুর পিজন এসোসিয়েশন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান জানান, প্রায় ১০/১১ বছর পূর্বে সৌখিন কবুতর প্রেমিকদের নিয়ে একটি সমিতি গঠন করা হয়। প্রথম পর্যায় ক্ষুদ্র পরিসরে একটি হাট শুরু করলেও এখন বিভিন্ন জেলা থেকে কবুতর প্রেমিকরা আসেন কবুতর ক্রয়-বিক্রয় করতে। হাটের পাশে কমিউনিটি সেন্টার চালু হলে হাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করছে সংগঠনটি।
মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র মো. খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, সৌখিন কবুতর প্রেমিকদের উৎসাহ দিতে আমরা বিনা খাজনায় হাটটির ব্যবস্থা করেছি। বাজার সংলগ্ন কমিউনিটি সেন্টার চালু হলেও হাটটি সচল রাখা হবে ।
শখের বশে অনেকে কবুতর পালন করে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন, পাশাপাশি তারা আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন।









