৫ কিমি দীর্ঘ সড়কটির পুন:নির্মাণ ও ৩০০ মিটার গাইডওয়াল নির্মাণ কাজে ব্যয় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে ঠিকাদার শাহ আনোয়ার ট্রেডাস নীলফামারীর আরেক ঠিকাদারের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেয়। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি করা হলেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি
নীলফামারীর ডিমলায় বিজয় চত্বর থেকে ডিমলা-ডোমার সড়কটি সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে পুননির্মাণ ও সড়কের ভাঙনরোধে নির্মিত আরসিসি গাইডওয়ালটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়েছে। সড়কের পাশে নদীর অংশে গাইডওয়াল নির্মাণে ত্রুটি, অপরিকল্পিত ইঞ্জিনিয়ারিং ও ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ২০১৯/২০ অর্থবছরে সড়কটি পুননির্মাণ ও গাইডওয়াল নির্মাণ করার কাজটি পায় শাহ আনোয়ার ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির পুননির্মাণ ও ৩০০ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে ঠিকাদার নীলফামারীর আরেক ঠিকাদারের কাছে নির্মাণ কাজটি বিক্রি করে দেয়। এদিকে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর কয়েকদফা সময় বৃদ্ধি করলেও নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদ্য নির্মাণ করা ওই সড়কের একপাশে সিংগাহারা নদী। নদীটির পাড় হিসেবে ব্যবহার হয় সড়কটি। প্রতিবছর বন্যায় নদীর প্রবলস্রোতে সড়কটি ভাঙনের মুখে পড়ে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ভাঙনরোধে সড়ক রক্ষা করতে নদীর ওই অংশে এবার আরসিসি গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই গাইডওয়ালটি হেলে পড়ে বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। একপর্যায়ে গাইড ওয়ালের প্রায় ১৫ মিটার অংশ ভেঙ্গে নদীতে ধ্বসে পড়ে।
এলাকাবাসী জানান, এ সড়কপথে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। উপজেলাটি কৃষিতে সমৃদ্ধ হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে বিভিন্ন হাট বাজার থেকে কৃষিপণ্য কিনে নিয়ে যান এ সড়ক দিয়ে। গাইডওয়াল ভেঙ্গে যাওয়ায় সড়কটি আবার ভেঙে গেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন এলাকার কৃষকরা। তাই গাইডওয়ালটি দ্রুত সংস্কারসহ দায়িত্বহীনতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
সড়ক নির্মাণের সাব ঠিকাদার সামুন জানান, সড়ক টিকাতে চাইলে কর্তৃপক্ষকে আগে সঠিক পরিকল্পনায় নদীর অংশে গাইডওয়াল নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে যতবার সংস্কার করা হোক অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে তা টিকবে না।
ঠিকাদার শাহ আনোয়ার জানান, তিনি ব্যাস্ততার কারণে কাজটি অন্য ঠিকাদারেক দিয়েছেন। গাইডওয়ালের ভাঙ্গা অংশ ওই ঠিকাদার পুনরায় মেরামত করে দিবেন।
উপজেলা প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কাজটি সম্পন্ন করেননি। তবে গাইডওয়াল নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়নি। কিছু অংশ ভেঙে নদীতে পড়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









