- প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করলো এলাকাবাসী
নীলফামারীর ডিমলায় একটি আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ ও মেরামতে কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁচামাল ব্যবহারে গাফিলতি, নিম্নমানের ইট ও বালুর পরিবর্তে মাটি দেওয়া হচ্ছে বেশি।
রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ও নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে রবিবার বিকেলে কাজ বন্ধ করে দেয় এলাকাবাসী।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের জমদ্দিস চৌপথি থেকে ভাটিয়া পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্তকরণে হেরিং বোল্ড বন্ড (এইচবিবি) করণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ছে। রাস্তাটি প্রশস্তকরণে ২ ধারে ৩ ফিট করে ৬ ফিট হেরিং বোল্ড বন্ড করণের কাজ শেষ না হতেই সড়কটির একাধিক স্থানে দেবে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের ধারে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মডেল মসজিদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
এলজিআইডি সূত্রে জানা যায়, জমদ্দিস চৌপথি থেকে ভাটিয়ার চৌপথি পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়ক ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে প্রশস্তকরণ ও মেরামতে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় রেজু রওনক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি সম্পন্ন করছেন গোলাম রসুল। সড়ক সমপ্রসারণ ও মেরামত কাজের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হলেও কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৩০ ভাগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণ কাজের প্রথম অংশ মাটিকাটা সম্পন্ন করে এইচবিবি পদ্ধতির প্রথম লেয়ারে ইটের সলিং এ বালু দেওয়ার কথা থাকলেও বালু দেয়া হয়নি। অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ও বালু দিয়ে কাজ করার ফলে প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক দেবে ও ধ্বসে গেছে।
শুকান দিঘি এলাকার বাসিন্দা রথিনাথ বলেন, সড়কের পাশের পুকুর ধারে সুরক্ষা দেয়াল নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন গালিগালাজ করে হুমকি দেয়। এতে অনিয়মের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা সত্যরঞ্জন জানান, এ সড়ক দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী কলেজে যায়, হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়। সড়কের কাজ নিম্নমানের হওয়ায় যাতায়াতের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের ছোটভাই আবদুল্লাহ বলেন, ইট ভাটা থেকে আমাদেরকে না জানিয়ে এসব নিম্নমানের ইট পাঠিয়েছে। আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ভালো ইট এনে তারপর কাজ শুরু করবো।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম জানান, নিম্নমানের ইট সরিয়ে নিতে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দিয়েছি। সড়কের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বৃষ্টির পানি একদিকে প্রভাবিত হওয়ায় কিছু জায়গায় সড়কের মাটি সরে গিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধসে যাওয়া ও দেবে যাওয়া অংশ পুনরায় ভরাট করে কাজ করবে। তবে রাস্তার কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।









