দেশে বর্তমানে অবৈধভাবে কাজ করছে ১০ লাখের বেশি বিদেশি শ্রমিক। সবচেয়ে বেশি বিদেশি শ্রমিক কাজ করে পোশাক খাতে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সবমিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশীদের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) ২০১৫ সালের এক গবেষণায় বলেছে, ভারতীয় নাগরিকই বাংলাদেশে কাজ করে প্রায় ৫ লাখ।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, মাত্র ২০ হাজার ৭১৩ জন বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করছে। বৈধভাবে দেশে কাজ করছে প্রায় ৬১ হাজার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারীদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, তাইওয়ান, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, লিবিয়া, ইরাক, নাইজেরিয়া, ঘানা, কঙ্গো, শ্রীলঙ্কা, আলজেরিয়া, আফগানিস্তান, চীন, তানজানিয়া, আফ্রিকা, উগান্ডাসহ প্রায় ৫৫টি দেশের নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করছে। ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে ভারতের ১০ হাজার ২২৭ জন, পাকিস্তানের ৪২১, চীনের ৩ হাজার ৬৫২, নেপালের ১ হাজার ৫১৮, শ্রীলঙ্কার ৫৩৪, রাশিয়ার ৩৪৮, সোমালিয়ার ১২২, দক্ষিণ কোরিয়ার ৬১০, উত্তর কোরিয়ার ৪০৬, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১৫ এবং যুক্তরাজ্যের ২০৩ জন অবৈধ নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছে। বৈধ নাগরিক রয়েছে ভারতের ১০ হাজার ৪৮৩, চীনের ৬ হাজার ২৮১, নেপালের ১ হাজার ২১১, পাকিস্তানের ৫১৭, রাশিয়ার ৪৪৩, শ্রীলঙ্কার ১ হাজার ৫৫৮, যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ৬২৭ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৪৯৬ জন।
আরও পড়ুন: দেশ থেকে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি শ্রমিকরা
বিদেশি নাগরিকদের কাজের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও এনজিওবিষয়ক ব্যুরো। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই অনুমতি নেওয়া হয় বিডার কাছ থেকে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিডায় নতুন ও মেয়াদ বৃদ্ধিসহ নিবন্ধিত শ্রমিক মাত্র ২৩ হাজার ৮৫৪ জন।
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ-এসবি’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বৈধভাবে বসবাস করছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৯ জন বিদেশি নাগরিক। এসব বিদেশি এক হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করছে।
এ ব্যাপারে সরকারের সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার জানান, বিদ্যমান আইনের বিধানে কোনও ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে সেটি সংশোধন করা উচিত। বিনা অনুমতিতে বিদেশি কর্মী কাজ করলে সে কর্মী ও তার নিয়োগদাতা দুজনকেই আইনের আওতায় আনা হবে—এমন একটি কার্যকর বার্তা দেওয়া যায় কিনা তা ভাবা উচিত। একটি সময়ের পর সেই বার্তাটি অর্থবহ করতে অ্যাকশনে যাওয়া উচিত। ভিজিট ভিসায় আসা লোকদের ভিসা নবায়নে যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। নাহলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতার সুযোগে বিদেশি কর্মী ও তাদের পাঠানো আয় নিজ দেশে পাঠানোর পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। আমাদের প্রবাসী কর্মীদের হাড়ভাঙা খাটুনির টাকার একটি বড় অংশ নেবে তারাই।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









