জামালপুরের বকশীগঞ্জে গেল দুই বছর আগে বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়া ব্রিজের ওপর দিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচলে জনসাধারনের চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়ায় শত শত মানুষ যানবাহন নিয়ে ও যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই ভাঙা ব্রিজের ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে যা দিয়ে কোনো রকমে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী জানায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার ১নং ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কামালপুর-ঘাসির পাড়া সড়কের ওপর এলজিইডির নির্মিত একটি ব্রিজ গত দুই বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কামালপুর, বগারচর, সাধুরপাড়া, বাট্টাজোড় ও বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একারণে যানবাহনে করে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও ভারী কোনো মালবাহী গাড়ী বহন করতে পারছে না।
স্থানীয় কামালপুর ও এর আশপাশের গ্রামে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বা জরুরি সার্ভিসের প্রয়োজন হলে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী এবং মালবাহী ট্রাক বাস সেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হয় না।
প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল ও পাহাড়ি জনপদসহ বিভিন্ন এলাকার উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে এ রাস্তা ব্যবহার করে থাকেন।
উপজেলা শহরে যেতেও জানযট মুক্ত হিসেবে বিকল্প রাস্তা হিসেবে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মানুষ ব্যবহার করেন।
তবে গত দুই বছরেও ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় এবং বাঁশের সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন মানুষ।
ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান লাকপতি জানান, আগামী বন্যা ও বর্ষা মৌসুমের আগে ব্রিজটি নির্মাণ না করা হলে ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের মানুষকে অতিকষ্টে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তায় ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর উপজেলা প্রকৌশলী ছামসুল হক জানান, আমরা তালিকা পাঠিয়েছি এবং শিগগিরই একটা ভালো ফল পাব বলে আশা করছি।
ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ও কয়েকটি ইউনিয়নের সকল শ্রেণির মানুষের দাবি অবিলম্বে কামালপুর-ঘাসিরপাড়া রাস্তার ওপর ভেঙে যাওয়া ব্রিজটি দ্রতি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তারা এবিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।









