উত্তাল মেঘনা
আসছে বৈশাখ মাস। কাল বৈশাখীকে সামনে রেখে উত্তাল হয়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদী। এ উত্তাল নদীতে ঝুঁকি নিয়ে বয়া বা লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই ট্রলারে করে গজারিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ জেলা শহরে আসছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দুরত্বে গজারিয়া উপজেলা। তবে ওই উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের নেই কোনো রাস্তা। গজারিয়া উপজেলাবাসীকে মেঘনা নদী পার হয়েই আসতে হয় জেলা সদরে। অন্যথায় সামান্য দূরত্বে জেলা সদরে সড়ক পথে আসতে হয় ১০ গুণে প্রায় ৭০ কিলোমিটার রাস্তাঘুরে ঢাকা, নারায়ণঞ্জ দিয়ে । সাধারণ মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ইঞ্জিন চালিত নৌকা। মুন্সীগঞ্জ থেকে গজারিয়া যেতে রয়েছে চরকিশোরগঞ্জ ঘাটে ২০ থেকে ২৫ ট্রলার। একটি ট্রলারেও নেই বয়া বা লাইফ জ্যাকেট।
মুন্সীগঞ্জ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট শাহআলম বলেন, মেঘনায় এখন অনেক ঢেউ। এতে ট্রলারে অনেক কম্পন সৃষ্টি হয়। ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারে পানি উঠে আসে। শরীর ভিজে যায়। অনেক সময় নারী ও শিশুরা ঢেউয়ের তোড়ে ঝাকুনি খেয়ে কান্না শুরু করে। সামনে কাল বৈশাখী ঝড় উঠলে যে কোনো মুহুর্তে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। তাই জীবন হাতে নিয়ে পারপার হতে হয় আমাদের। জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় জেলার অপর চারটি উপজেলায় ও গজারিয়া বাসীকে যোগাযোগে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জেলার ৫টি উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের পূর্বাঞ্চলের গজারিয়াকে মেঘনা নদী বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এতে করে জেলার ৫ উপজেলার সঙ্গে গজারিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।
উপজেলাবাসির দাবী যদি মেঘনা নদীতে সেতু নির্মাণ হলেই আমাদের এ দুর্ভোগের সমাধান হতো। এবিষয়ে জেলা সড়ক ও জনপথ এর নির্বাহী প্রকোশলী আনন্দবাজারকে বলেন, মেঘনা নদীর এ পাড়ের অংশটুকু নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার অর্ন্তভুক্ত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলীই জানেন এ মেঘনা নদীতে সেতু নির্মাণের কোনো প্রস্তাব আছে কিনা তাছাড়া মুন্সীগঞ্জ তথা নারায়ণগঞ্জ এর স্থানীয় সংসদের হস্তক্ষেপেই এ সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। মেঘনা নদীতে যদি সেতু নির্মাণ হয় গজারিয়াবাসির দুর্ভোগ লাঘব ও অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হবে।
নদীপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই দীর্ঘ পথ অতিক্রম ও অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে সড়ক পথে মুন্সীগঞ্জে আসা যাওয়া করে থাকেন। গজারিয়া উপজেলা সদর, থানা ও হাইওয়ে সড়কে যেতে ট্রলার দিয়ে পার হতে হয় গজারিয়ার জনগোষ্ঠীকে। এসব কারণে অবহেলিত জনপদ গজারিয়া।
গজারিয়ার ইমামপুর ইউনিয়নে বাসিন্দা আলী আহম্মদ প্রধান (৭৪) বলেন, নদীতে উত্তাল ঢেউ, প্রতিদিনই ট্রলার ডুবির দূর্ঘটনা ঘটছে বর্ষা আসতেছে। অনেক ঝুঁকি ট্রলারে পার হয়ে আদালতে যাচ্ছি।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ নৌরুটে বয়া ও লাইফ জ্যাকেট দেয়া হয়েছিল। যদি ব্যবহার না করে থাকে। তাহলে খোঁজখবর নিয়ে ট্রলার মাঝিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।









