ডুরার সংলাপ- অসহনীয় যানজট: সমাধান কী?
অসহনীয় যানজট মানিয়ে নেয়ার পরামর্শ মন্ত্রীর
সবাই বলেন করতে হবে, তাহলে করবেটা কে?: ইলিয়াস কাঞ্চন
ঢাকার রাস্তার অসহনীয় যানজট জনসাধারণকে মানিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-ডুরা আয়োজিত 'অসহনীয় যানজট: সমাধান কী' শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন।
মন্ত্রী বলেন, যানজট যে শুধুমাত্র আমাদের দেশেই হয় তা কিন্তু নয়, পৃথিবীর অনেক উন্নত রাষ্ট্রে এ সমস্যা রয়েছে। সেসব রাষ্ট্রের মানুষ যানজট থেকে রক্ষা পেতে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। লন্ডনে গিয়ে আমিও এমন ভোগান্তিতে পড়েছি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানে এক ঘণ্টা গাড়িতে বসে থাকার পর পাঁয়ে হেটে মিটিংয়ে অংশ নিয়েছি। যানজট নিরশনে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে চাইলেই তো আর তাৎক্ষণিক সমাধান করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজন আছে। আপাতত জনগণকে এ অসহনীয় যানজট মানিয়ে নিতে হবে।
সামনের দিনে যানজট আরো বাড়বে বলে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, যেভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে এতে দেশের গ্রামগঞ্জেও যানজট সৃষ্টি হবে। গ্রামগঞ্জের উন্নয়নের ফলে সেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। এতে প্রতিনিয়তই গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। যা একসময়ে যানজট তৈরি করবে। বাংলাদেশকে অনন্য দেশ হিসেবে চিন্তা করলে হবে না। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো যে প্রক্রিয়ায় ট্রাফিক জ্যাম সমাধান করেছে, সেভাবে হুবহু আমাদের করা সম্ভব নয়। তাদের দেশের চিত্র আর আমাদের দেশের চিত্র এক না।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যা, পরিবহনের হিসেব করে উন্নয়ন করতে হবে। এ শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। ঢাকা শহরে কত মানুষ বসবাস করবে তা ঠিক করা জরুরি। কারণ সবাইকে ঢাকায় রাখা সম্ভব না। ঢাকা ডিটেল এরিয়া প্লান (ড্যাপ) সে লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হচ্ছে। ঢাকাকে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মূল ঢাকায় না থেকে যাতে করে মানুষজনকে সম্প্রসারিত এলাকায় স্থানান্তর করা যায় সে ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে সবার আগে। এরপর সমাধান খুঁজতে হবে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে উপজেলাতেও ট্রাফিক জ্যাম হবে সংসদে এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিণত হবে। মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ হাজার ডলারে। মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাল্টি ডাইমেনশনাল ইম্পেক্ট পড়বে। সবার গাড়ি কেনার সামর্থ্য হবে। সেক্ষেত্রে আমরা যদি এখন থেকে পরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো এবং রাস্তাঘাট নির্মাণ না করি তাহলে উপজেলাতেও ট্রাফিক জ্যাম হতে পারে বলে আমি বলেছিলাম। এখন থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ না করলে এই সমস্যা দেখা দেবেই।
ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের কাছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর করা হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিটি করপোরেশন নিজেদের অর্থায়নে এয়ারপোর্ট বানিয়েছে, সাবওয়ে নির্মাণ করেছে। আমাদের দুই সিটি করপোরেশন অনেক দায়িত্ব পালন করছে। দুই মেয়রের কাজ করার অনেক আগ্রহ রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করার সক্ষমতা আছে কি না তা দেখতে হবে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ট্র্যাফিক জ্যাম নিরসন করা একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ করতে হবে। ট্রাফিক আইন মানার বিষয়ে মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পতিক্রিয়ায় নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সবাই বলে সড়ক যানজটমুক্ত করতে হবে। স্বয়ং মন্ত্রীও বলছেন করতে হবে, সবাই যদি করতে হবে করতে হবে বলে তাহলে করবেটা কে? দায়িত্ব নিবে কে? এছাড়া বলা হচ্ছে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে জনগণের কাজটা কি? জনগণ এখন একটা কাজ করতে পারে সেটা হলো আপনারা যে উল্টো পথে গাড়ি নিয়ে দ্রুত চলে যান তা আটকিয়ে দেয়া। আপনাদের রাস্তা বন্ধ করে সড়কে সারাদিন অবস্থান করা। তাহলে আপনারা কাজ করবেন। এছাড়া আপনারা কেউই দায়িত্ব নিতে চান না। ইলিয়াস কাঞ্চনের এমন বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণ ট্রাফিক আইন মানে না। জনগণকে সচেতন হতে হবে। তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই যানজট নিরসন সম্ভব হবে।
ডুরার সভাপতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহেদ শফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক। এছাড়া বক্তব্য দেন নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলামসহ আরো অনেকে।









