বিশ্বজনীন বাঙালি, অমর একুশের গানের রচয়িতা, প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার ও জাতীয় প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে তার মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয়।
মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়ার সময় অমর একুশের সেই গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি... সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া হয়। এরপর পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে শহীদ বেদীতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরাদেহ রাখা হয়।
এসময় মরদেহে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জে. এস এম সালাউদ্দিন ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কবির আহমেদ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।
পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাসিম প্রমুখ। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবে। বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। অংশ নেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ও সাংবাদিকরা। জানাজা শেষে তার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান সাংবাদিক নেতারা।
জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে প্রখ্যাত এই সাংবাদিককে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তার মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সরকারের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গত বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।









