মহামারি করোনাভাইরাস ও বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে নওগাঁয় কোরবানির পশুর হাট এবার খানিকটা দেরিতে জমে উঠেছে। শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে গরু উঠছে প্রচুর। স্থানীয় ক্রেতা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় বাজারের মৌসুমি গরু ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা গরু কিনছেন এখান থেকে।
হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃত্রিম সংকট তৈরি করা না হলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এবার কোরবানির গবাদিপশুর দাম সহনীয় থাকবে। কারণ বাজারে প্রচুর গবাদিপশুর সরবরাহ রয়েছে। এবার হাটগুলোতে গরুর তুলনায় ছাগল ও ভেড়ার চাহিদা অনেক।
তবে খামারি ও পশু ব্যাপারীরা অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন। এবার শেষ সপ্তাহে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় বাজারের ব্যাপারী ও গরু ব্যবসায়ীরা গরু কেনা শুরু করেছেন। এখনো চাহিদার তুলনায় হাটগুলোতে অনেক বেশি গরু উঠছে। ফলে বেচাবিক্রি আগের বছরগুলোর তুলনায় কম। এই কারণে প্রত্যাশার চেয়ে কম দামে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়েও গরু বিক্রি করছেন। শেষ পর্যন্ত এ অবস্থা থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন খামারি ও পশু ব্যাপারীরা।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁয় ছোটবড় ১০৪টি হাট রয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী গবাদিপশুর হাট রয়েছে ৩৮টি। মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া ও সতিহাট, নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া, মহাদেবপুর মাতাজী, রাণীনগরের আবাদপুকুর, ত্রিমোহনী, বদলগাছীর কোলা, আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ, পত্নীতলার মধইল, পোরশার মশিদপুর এবং সাপাহারের দীঘিরহাটে গবাদিপশু বেশি বিক্রি হয়।
জেলার সবচেয়ে বড় গবাদিপশুর হাট মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে প্রচুর গরু উঠেছে। পশুর হাটের জন্য নির্ধারিত স্থানে জায়গা না হওয়ায় পাশের রাস্তা ও কৃষিজমিতেও হাট বসানো হয়েছে। এই হাটে আকার ভেদে ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ৫লাখ টাকায় গরু বিক্রি হচ্ছে।
রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহনী হাটের ইজারাদার বেদারুল ইসলাম এবং আবাদপুকুর হাটের ইজাদার শহিদুল ইসলাম ফটিক জানান, গতবারের তুলনায় এবার হাটে গরুর আমদানি বেশি। ছোট ও বড় গরুর তুলনায় মাঝারির চাহিদা বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার সব ধরনের গবাদিপশুর দাম কম রয়েছে।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকে আসা গরু বিক্রেতা আফজাল হোসেন জানান, এবার গরু বেশী, সে তুলনায় ক্রেতা নাই। বন্যায় নিজের থাকার জায়গা নাই গরু রাখবো কোথায়, তাই একটু লস হলেও ছেড়ে দিলাম।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস/এন এ









