পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশি যুবক ফরিদুল মন্ডলের লাশ ফেরত দেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এর আগে রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়ারচর সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হন তিনি।
এ ঘটনার পর বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে কয়েক দফায় পতাকা বৈঠক হয়েছিল। ফরিদুল মন্ডলের লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে পরদিন সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক ১০৫৪ মেইন পিলারের কাছে ছাটকড়াইবাড়ী সীমান্ত এলাকার নোম্যান্স ল্যান্ডে বিজিবি ও বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই পতাকা বৈঠকের বিষয় বিজিবি গণমাধ্যমকে কিছুই জানায়নি।
নিহত যুবক ফরিদুল উপজেলার হরিণধরা গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে।
একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানিয়েছে, ঘটনার পরে ফরিদুলের লাশ ভারতীয় বিএসএফ ও পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতে সীমান্তের ঘটনাস্থল থেকে ধুবড়ি জেলার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ময়নাতদন্তের পর মরদেহটি আবারও কুকুমারা বিএসএফ ক্যাম্পে রাখা হয়।
এদিকে ভারতীয় বিএসএফ ফরিদুল মন্ডলের মরদেহ না এনে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছিল। পতাকা বৈঠকে লাশ না এনে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিবে না বলে বিজিবিকে জানিয়ে দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, ফরিদুলের লাশ এখনও কুকুমারা ক্যাম্পে আছে। তবে সেখান থেকে এক ধরনের ‘গন্ধ’ সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, ফরিদুল মন্ডলের লাশের গন্ধ।
স্বজনারা আরও জানায়, নিহতের লাশের বিষয়ে বিজিবি ক্যাম্পে বারবার গেলেও তারাও কিছুই বলে না। আমরা সরকারের কাছে ফরিদুলের লাশ ফেরতের জন্য দাবি করছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, গুলিতে নিহত ফরিদুল মন্ডলের লাশের জন্য বাড়িতে কান্নার আহাজারি। অথচ পাঁচদিন পার হলেও লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ। উল্টো ঘটনার পরের দিনেই আরও একটি স্থানে গুলিবর্ষণ করে বিএসএফ।
জামালপুর ব্যাটালিয়ন-৩৫ বিজিবির দাঁতভাঙ্গা বিওপির সুবেদার আনছার আলী জানান, নিহত বাংলাদেশি যুবকের লাশ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্বকাউয়ারচর সীমান্তের আর্ন্তজাতিক ১০৫৭ নম্বর মেইন পিলারের ৩-এস-টি সাব পিলালের কাছে ভারতীয় গরু পারাপারের সময় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক ফরিদুল মন্ডলের মৃত্যু হয়।
আনন্দবাজার/শহক









