প্রতিদিন ৭০ বার এ গেইট বন্ধ করতে হয়। এতে শহরে তৈরি হয় ভীষণ যানজট। ক্রসিংয়ের ওপর যদি ওভারপাস নির্মাণ করে দিলে এ সমস্যার সমাধান হতো
গাজীপুরবাসির দুঃখ জয়দেবপুর রেলক্রসিং। প্রায় ১৩৮ বছরের পুরনো গাজীপুর শহরের প্রবেশ মুখেই রয়েছে এ রেলক্রসিং। এ রেলক্রসিং পার হয়েই যেতে হয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সকল স্থানে। দেশের সর্ববৃহৎ সিটি করপোরেশন হলেও জয়দেবপুর রেলক্রসিং তীব্র যানজট লেগেই থাকে।
গাজীপুর পৌরসভা থেকে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ সিটি করপোরেশন হিসেবে মর্যাদা লাভের পর শহর থেকে মহানগরীতে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে নগরাঞ্চলে জনসমাগমের পরিমানও বেড়েছে কয়েকগুণ। রাজধানী ঢাকার একেবারেই পাশের শহর হলো গাজীপুর হওয়ায় দিন দিন ক্রমাগতই বেড়েই চলেছে মানুষের সংখ্যা। ব্যস্ততম গাজীপুর মহানগরীর কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে ব্যস্ততম রেল স্টেশন ‘জয়দেবপুর জংশন’। আর এ জংশন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে ট্রেনে। প্রতিবার ট্রেন চলাচলের সময় এ লেভেল ক্রসিং ব্যারিয়ারে আটকা পড়তে হয় সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের। অথচ এ ক্রসিংয়ের কারণেই তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। যা একেবারে ক্রসিংয়ের পূর্ব প্রান্ত শহরের রাজবাড়ি পর্যন্ত চলে যায়। পশ্চিম প্রান্ত থেকে একেবারে শিববাড়ি পর্যন্ত। এ লেভেল ক্রসিংয়ের যানজটের কারণে শহরে প্রতিদিন গড়ে মানুষের ৮ ঘন্টা সময় নষ্ট হয়।
গাজীপুর মহানগরীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যেতে হলে কোনো না কোনো ভাবেই রেলক্রসিং পার হয়েই যেতে হয়। ক্রসিংয়ের অদূরেই জয়দেবপুর জংশন। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের সব ট্রেন এ পথ দিয়ে আপডাউন করে। সে হিসেবে দেখা যায়, দিন-রাত মিলিয়ে প্রতিদিন এ রেলক্রসিং দিয়ে ৭২টি ট্রেন আপডাউন করায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। প্রতিটি ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় স্বাভাবিক ভাবেই দু’পাশের পথ আটকে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ট্রেন আসার অপেক্ষা। প্রতিবার ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় অন্তত ১৫মি. আটকা পড়তে হয় সড়ক ব্যবহারকারীদের। এতে করে লেভেল ক্রসিংয়ে তৈরি হওয়া যানজটের কারণে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ৮ কর্মঘন্টা।
২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন উন্নীত হলেও রেলক্রসিংয়ের সমস্যার সমাধান হয়নি এখনো। উল্টো নগরে বেড়েছে মানুষের চাপ। রেলক্রসিংয়ের পাশে রেললাইনের ওপর আড়াআড়ি বসেছে দোকানপাট। এগুলো সবই ভ্রাম্যমাণ দোকান। এদের মধ্যে ফল বিক্রেতার সংখ্যাই বেশি। ট্রেন কাছাকাছি থাকলে চলে এলে ফলের ঝুঁড়িগুলো ঝটপট তারা তুলে নেন। ট্রেন চলে গেলে আবারও সেই আগের মতোই অবস্থা। প্রায় প্রতিদিনই এখানে ঘটছে নানা দূর্ঘটনা। তার ওপর আইন মানার নেই কোনো প্রবণতা।
সরেজমিন দেখা যায়, অনেকেই ট্রেন চলে আসার আগে রেলক্রসিংয়ের প্রতিবন্ধক ফেলার পর নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। মোটরসাইকেল আরোহীদের অনেকেই সেগুলো উঁচু করে বিপজ্জনক ভাবে পার হয়ে যান। নগরবাসীর দাবি, এখানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা অতিব জরুরী। ট্রেন আসার সময় গুরুতর রোগীদের নিয়ে বেহাল অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় স্বজনদের। এমনকি রোগীদের নিয়ে চলাচলকারী এম্বুলেন্সগুলোকে। নগরের কোথাও আগুন লাগার সংবাদ পেলে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গুলোকেও আটকে থাকতে দেখা যায় এ রেলক্রসিংয়ে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু হানিফ বলেন, নিয়ম হচ্ছে যখন একটা ট্রেন মৌচাক রেলস্টেশন থেকে ছাড়ে তখনই আমাদের গেট বন্ধ করা হয়। তবে শহরের যানজট নিরসণের জন্য আমরা আরও ৫ থেকে ৭ মিনিট পরে রেলক্রসিংয়ের গেইট বন্ধ করি। সারাদিন আমাদের অন্তত ৭০ বার এ গেইট বন্ধ করতে হয়। আর এতে করে শহরে তৈরি হয় ভীষণ যানজট। ক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস নির্মাণ করে দিলে এ সমস্যার সমাধান হতো।
আনন্দবাজার/শহক









