- ডিস ক্যাবল নেটওয়ার্কে জুয়া খেলার প্রচার
র্যাফল ড্র এর কারণে একটি ছোট জনপদ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী হাতিয়ে নিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সবজি ও মাছ বাজারে: মুশতাকুর রহমান, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, কটিয়াদী
কটিয়াদী উপজেলায় বস্ত্র ও তাঁতশিল্প মেলার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লটারি নামে জুয়ার জন্য নয় : জ্যোতিশ^র পাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কটিয়াদী
লটারির নামে জুয়া। প্রতিদিন প্রথম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে মোটরসাইকেল, সোনার গহনাসহ আরো হাজার হাজার টাকা পুরস্কার। এমন সব লোভনীয় প্রচার প্রচারণা দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লটারির নামে লাখ লাখ টাকা। কটিয়াদী উপজেলা ছাড়াও আনাচে কানাচে সকাল থেকে প্রায় শতাধিক ইজিবাইকে মাইক লাগিয়ে রাত সাড়ে ৯টা অবধি ছুটছে নগর ছাড়িয়ে গ্রামে। মেলায় গেইট ফির নামে লটারি টিকেট বিক্রির সময় ক্রেতাদের আকর্ষণের নামে চলছে অভিনব প্রচারণা। কোনো কোনো রিকশা/ভ্যান চালক সারাদিনের আয় দিয়ে লটারির টিকেট কিনছে। লটারির দৃশ্য ডিস কেবলের সহায়তায় টিভিতে সম্প্রচারের কারণে আরো বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। এ লটারির টিকেট কিনতে গিয়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছে। কারো সংসার ভেঙ্গেছে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে চলছে মেলার নামে মৌসুমি লটারি ব্যবসা। মাইকের শব্দে কান ঝালা পালা। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। আশেপাশের মানুষ ত্যাক্ত বিরক্ত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেলা শুরুর পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার টিকিট কিনছেন নিম্নআয়ের লোকজন। এতে লোভে পড়ে অনেকেই হচ্ছেন সর্বস্বান্ত। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিনীত অনুরোধ,দয়া করে লটারির নামে জুয়া বন্ধে পদক্ষেপ নিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২টি বস্ত্রের দোকান, ১৭টি কসমেটিকস, ৩টি রেস্টুরেন্ট সহ বিভিন্ন ছোট বড় কয়েকটি দোকান। কেনাকাটার চেয়ে মূল দৃষ্টি সবার লটারির দিকে। ছয়টি পৃথক রঙের টিকিট থাকায় একেকজন টিকিট কিনছিলেন কয়েক ডজন করে। টিকিটের একটি অংশ নিজের কাছে রেখে অপর একটি অংশে নাম ও মোবাইল নম্বর লিখে নির্ধারিত বাক্সে ফেলেন ক্রেতারা। প্রতিদিন রাত ১০টায় শুরু হয় ড্র অনুষ্ঠান। এ সময় একজনের চোখ বেঁধে তুলতে দেওয়া হয় কাঙ্কিত টিকিট। ৩৬টি পুরস্কারের মধ্যে প্রথম পুরস্কার ছিল ১৬০ সিসি এপাচি মোটরসাইকেল। এছাড়াও বিভিন্ন রকম পুরষ্কার মিলিয়ে ৩৬টির মতো রয়েছে।
টিকিট কেনার সময় কথা হয় তাহের আলী বলেন, দামি জিনিসপত্রের লোভে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকার টিকিট কিনছি। সারাদিন যা কামাই তা দিয়ে লটারির টিকিট কিনি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পুরস্কার পাই নাই।’ এরপরেও হাল ছাড়ি নি, দেখি যদি ভাগ্যে থাকে, পাইতেও পারি। এজন্য কিছু টাকা ঋণ করেছি।
টিকিট বিক্রেতা সুমন ও লিটন জানায়,'তার গাড়িতে পাঁচ শতাধিক টিকিট রয়েছে। এমন শতাধিক গাড়ি রয়েছে।' শতাধিক প্রচার গাড়ির মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে টিকিট। প্রতিটির মূল্য ২০ টাকা। একেকটি গাড়িতে বিক্রি হচ্ছে পাঁচ শতাধিক টিকিট।
কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশতাকুর রহমান বলেন, র্যাফল ড্রর কারণে একটি ছোট জনপদ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা একটি নির্দিষ্ট খাতে চলে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সবজি ও মাছ বাজারে।
তবে র্যাফল ড্র নামে লাখ লাখ টাকা করছে অভিযোগটি অস্বীকার করে পৌর মেয়র শওকত উসমান বলেন, এ মেলায় প্রতিদিন অনেক টাকা খরচ হয়। এখানে অনেককে টাকা দিতে হয়। আবার অনেককে বেশি টাকা দাবি করে। একটু কম দিলেই উল্টাপাল্টা শুরু করেন। এত সব সমন্বয় করে লাভ থাকেনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতিশ^র পাল বলেন, কটিয়াদী উপজেলায় বস্ত্র ও তাঁতশিল্প মেলা হচ্ছে। তাদেরকে মেলার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লটারি নামে জুয়ার জন্য নয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে নজরে এনেছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. শামীম আলম বলেন, মেলা পরিচালনায় অসংগতিগুলো সুনির্দিষ্ট করে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতিশ^র পালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









