ছেলেকে জড়িয়ে মায়ের কান্না
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ সীমান্তে গঙ্গাপূজা উপলক্ষে দুই বাংলার মিলন মেলা। মেলায় আত্মীয়স্বজনদের প্রায় তিন বছর পর দেখে অনেকে কান্না ধরে রাখতে পারেনি।
গত বুধবার দুপুর থেকে বিকেল সন্ধ্যা পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের ঘোঙ্গাগাছ সীমান্তের নো ম্যানসল্যান্ডে মালদহ নদীর তীর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার সিতাই থানায় কাটাতারের বেড়ার পাশে ভেড়ভেড়ি এলাকায় মালদহ নদীর তীরে গঙ্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর চৈত্র মাসে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কঠোর নজরদারিতে সীমান্তের ৯১৫ নম্বর পিলারের কাছে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, পাকিস্তান আমল থেকে মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনা মহামারির কারণে প্রায় ৩ বছর মেলাটি অনুষ্ঠিত বন্ধ ছিল। দুই বাংলার মানুষ একত্রিত হয়ে স্বজনদের দেখে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় জড়িয়ে পড়েন। শ্যামল চন্দ্র বলেন, পাসপোর্ট তৈরি করার সামর্থ্য নেই। তাই সীমান্তে গঙ্গাপূজা উপলক্ষে মেলায় এসে ভারতীয় আত্মীস্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।
খগেন্দ্র নাথ (৩৫) থাকেন ভারতের কুচবিহারে। গত বিশ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাড়ি জমিয়ে সেখানে বসবাস করেন। মা দিনোবালা(৫০) থাকেন বাংলাদেশের কালীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের গোড়ল ইউনিয়নে। খগেন্দ্র নাথ প্রায় তিন বছর পর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন এ মেলায়। এ সময় মা তার গলা জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গোড়ল ইউনিয়নের বাসিন্দা হরি চন্দ্র রায় (৪৫) বলেন, উভয় দেশের নাগরিক মালদহ নদীতে পুণ্যস্নান করেন। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকরা কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভেড়ভেড়ি এলাকায় গঙ্গাপূজা করার পর মালদহ নদীতে পুণ্যস্নান করে থাকেন। করোনা মহামারির কারণে ৩ বছর সীমান্ত মেলাটি বন্ধ ছিল তাই এ বছর দুই বাংলা মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল।
গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার বাংলাদেশি এসেছিলেন এ মেলায়। অধিকাংশ মানুষ এসেছিলেন ভারতে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার জন্য। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে মেলাটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এতে বিজিবি ও বিএসএফ দুই বাংলার মানুষদের বাধা প্রদান করেননি। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে মেলা শেষে দুইদেশের নাগরিকরা তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।









