চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতি নদীজুড়ে চলছে সরকারদলীয় নেতাদের বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ অভিযান অব্যাহত থাকলেও থেমে নেই ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাদের বালু উত্তোলন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলি সেতু। অদৃশ্য কারণে এদের বিরুদ্ধে হয়না কোন অভিযান। ফলে বগাবিলি সেতুর পিলার ঘেঁষে ইছামতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ বালুমহাল।
সেতুর আশপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না সরকারদলীয় প্রভাবশালী বালু উত্তোলক চক্র। এ অবস্থায় বগাবিলি সেতুর ৩টি পিলারের গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সেতু। এমনকি সেতুর ৩টি পিলারের নিচে স্কাউরিং সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন সময় ব্রীজ ধসে বড় ধরণের প্রাণঘাতির ঘটনা ঘটতে পারে।
বালু উত্তোলক চক্রের এসব নেতাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংসদ ও তথ্যমন্ত্রীর কাছে অভিয়োগ করলে, তথ্যমন্ত্রী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের আটকের নির্দেশ দেন উপজেলা প্রশাসনকে। বর্তমানে বালু উত্তোলক চক্রের মূল হোতারা আড়ালে থেকে কৌশলে তাঁদের সহযোগীদের দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনকারী হোতাদের তালিকা তৈরি করেছে বলে জানা যায়।
সরেজমিনে বগাবিলি সেতু পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে সেতুটির ৩টি পিলারের চারপাশ থেকে মাটি সরে গেছে। এতে সেতুটি ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব কারণে সেতুটির ভারবহণ ক্ষমতাও অনেকাংশে কমে গেছে। সেতুর উপর কোন মালবাহী গাড়ী উঠলেই সেতুটি কেঁপে উঠে এবং গাড়িগুলোকে পার হতে হচ্ছে খুব সাবধানে। এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতুটি পরিদর্শন বা এসব পিলারকে বিপজ্জনক মর্মে কোন সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি।
[caption id="attachment_80719" align="aligncenter" width="500"]
বগাবিলি সেতু[/caption]
স্থানীয়রা জানান, ক্ষমতাসিন দলের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশেই বালু উত্তোলনকারী চক্র ইছামতি নদী থেকে বগাবিলি সেতুর দুই পাশের আধা কিলোমিটার মধ্যে ৪টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনকি অনেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজারের সাহায্যে নদী থেকে বালু তুলে তাদের ইটভাটা, পুকুর, বসতবিটা ভরাটসহ বালু বিক্রি করছেন। এতে করে হুমকির মুখে পাড়েছে সেতুর পিলার। কোনোভাবেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা তাঁরা মানছেন না। সেতুর এত কাছ থেকে বালু তোলা ঠিক হচ্ছে না। এ বিষয়ে তাঁরা স্থানীয় সাংসদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
এদিকে ইছামতি নদীর কারণে রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলি গ্রামটি উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে উভয় পাড়ের মানুষকে একত্রিত করার জন্য এবং বগাবিলি গ্রামের মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০০৯ সালে এক কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ইছামতি নদীর ওপর ১২৬. ২৫ মিটির দীর্ঘ বগাবিলি সেতুর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চট্টগ্রামের কনসুনেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০১৩ সালে সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বর্তমান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ উদ্ভোধন করেন।
রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি: শামশুল আলম বলেন, ‘পিলারের নিচ থেকে বালু তোলায় সেতুটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি বারবার নিষেধ করেও ফল পাননি। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।'
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে না গিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাইনা, তবে কেউ কেউ বেপরোয়া হয়ে নদী থেকে বালু তুলছেন। এ জন্য তাঁরা বেশ কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন। অনেককে আটক, জারিমানা, খননযন্ত্র পোড়ানোসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বগাবিলি সেতুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারী যে দলেরই হোক ছাড় দেয়া হবেনা। সত্যতা পেলেই তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
আনন্দবাজার/শাহী/মতিন








