- ২০০৬ সালে গ্রহণ ৫৫ গ্রাম, বর্তমানে ৮৫ গ্রাম
সরকার পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যে জোর দিচ্ছে। আর পুষ্টিকর খাদ্যের মধ্যে ফল অন্যতম। ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেক তরুণ এসব চাষে ঝুঁকছেন। মানুষের খাওয়া বেড়েছে তবে পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার। প্রতিজনের দৈনিক ২০০ গ্রাম ফল দরকার প্রতিদিন। দেশি ফলের জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাতে করে ফল বিলুপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চত্বরে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘জাতীয় ফল মেলা ২০২২’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সাতক্ষীরায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো হচ্ছে প্রচুর। এতে আমদানির দরকার হবে না। খুলনায় লবনাক্ত জমিতে সারাবছর তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে, লবণ জমিতে অনেক সবজি হচ্ছে। আমাদের বিজ্ঞানীরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন গবেষণায়। ড. রাজ্জাক বলেন, ২০০৮ সালে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলাম দানাদার খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। এক প্রশ্নের উত্তরে পদ্মা সেতু খুলে দিলে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষিতে নতুন দিগন্ত আসবে বলে জানান মন্ত্রী। এই মেলায় কালোজাম দেখলাম যা বিশ্ববাজারে খুবই দামি, মিল্কশেকে ব্যবহার হয়।
এসময় কৃষি সচিব সায়েদুল ইসলাম, বিএআরসি চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণের মহাপিরচালক মো. বেনজির আলম, ধান গবেষণা ইনিস্টিউটের মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীরসহ মন্ত্রণালয় ও দফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। জাতীয় ফল মেলায় সরকারি-বেসরকারি ৮৫টি স্টল অংশ নিয়েছে। ‘বছরব্যাপী ফল চাষে, অর্থ পুষ্টি দুই-ই আসে’ প্রতিপাদ্যে ১৬ থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে ১৮ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা।
কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ২০০৮-০৯ সালে দেশে ফলের উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি টন, আর বর্তমানে ফলের উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টন। বিগত ১২ বছরে ফলের উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ২২%। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু দানাজাতীয় শস্য গ্রহণের পরিমাণ কমেছে এবং মাথাপিছু ফল গ্রহণের পরিমাণ বেড়েছে। ২০০৬ সালে মাথাপিছু ফল গ্রহণের হার ছিল ৫৫ গ্রাম যা বেড়ে এখন হয়েছে ৮৫ গ্রাম।
বর্তমানে একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ফলের চাহিদা ২০০ গ্রামের বিপরীতে প্রাপ্যতা হলো ৮৫ গ্রাম। সেজন্য ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশসম্মত নিরাপদ ফল উৎপাদনেও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে জানা গেছে।
দেশীয় ফল উৎপাদনে প্রত্যাশিত অগ্রগতিতেও বিদেশি ফলের আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে মোট আমদানি ফলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুরের দখলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি করতে হয়েছে ৮ লাখ ২৪১ মেট্রিক টন। তবে দেশেও এখন সীমিত পরিসরে কমলা ও মাল্টার চাষ হচ্ছে। মেলা উদ্বোধন শেষে কেআইবি অডিটরিয়ামে জাতীয় ফল মেলা নিয়ে সেমিনারে অংশ নেন মন্ত্রিসহ কর্মার্তকরা।









