- অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় খেজুর
প্রায় একযুগ ধরে প্রবাসে ছিলেন মোজাহিদুল ইসলাম রুবেল। সিঙ্গাপুরে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। নতুন কিছু করার ভাবনা থেকে ২০১৭ সালে সিঙ্গাপুর থেকে ২ কেজি মরিয়ম জাতের খেজুর কিনে আনেন। সেই খেজুরের বীজ থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের বাড়ির ছাদে পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করেন। উৎপাদিত চারায় ২৭ শতাংশ জমিতে গড়েছেন খেজুরের বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ৯ ধরনের বিদেশি খেজুর গাছ। ইতিমধ্যে পঁচিশটি গাছে এসেছে বাঁধা।
উদ্যোক্তা মোজাহিদুল ইসলাম রুবেলকে সকল ক্ষেত্রে সহায়তা করছেন তার বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন মিলন। দুই ভাইয়ে চেষ্টায় কলাপাড়া পৌর শহর সংলগ্ন টিয়াখালী ইউনিয়নে গড়ে তোলা বাগানে রয়েছে আজুয়া, মরিয়ম, সাফাই, তিউনিশিয়া, পাইরুম, আনবরা, ডাব্বাস, মাদজুল, সুকাই জাতের খেজুর গাছ। ২০১৮ সালের জুন-জুলাই মাসে ৫৫টি চারা দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে এ বাগানে রয়েছে ৯৬টি সৌদি খেজুরের গাছ।
দর্শনার্থী ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মোল্লা বলেন, এ বাগানের অনেক গাছে ফলন এসেছে। যা আমাদের এলাকায় মুচি বলে। এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা তাদের পিতার জমিতে এরকম বাগান করতে পারে।
দর্শনার্থী ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আরেফীন বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের লোনা পানিতে সৌদি খেজুরের বাগান করে বাস্তবে রূপদান করা এটা অসম্ভবকে সম্ভব করা।
উদ্যোক্তা’র বড় ভাই মহিউদ্দিন মিলন বলেন, ১৩টি কাঁধির মাঝখানে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথম অবস্থায় এ কাঁধিতে ৫৫টি চারারোপন করেছি। বর্তমানে চারার বয়স চার বছর। অনেক গাছে ফুল এসেছে।
উদ্যোক্তা মোজাহিদুল বলেন, ২০১৪ সালে আমার মাথায় এ পরিকল্পনা আসে। আমি সিঙ্গাপুর থেকে বীজ সংরক্ষণ করি। গাছটি সব মাটিতে হবে, তবে এর জন্য আলাদা পরিচর্যা করতে হবে। গেজুর গাছে রোগ সর্ম্পকে তিনি বলেন, প্রধান রোগ হলো ছত্রাক। মাত্র চার বছর খেজুরের বাগানে পানি, গাছ পরিস্কার ও বালাই নাশক ব্যবহারের ফলে সঠিক সময়ে খেজুর গাছে ফুল এসেছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার এ. আর. এম. সাইফুল্লাহ বলেন, বাগানে প্রায় ৯৬টি সৌদি খেজুরের গাছ রয়েছে। ২৫টি গাছে ফল আসা শুরু করেছে। বাগান পরিদর্শন করে তাদের যতধরনের সহযোগিতা দরকার সেটা আমরা করবো।









