রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেটকারের ওপর নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ার ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। গত ১৫ আগস্টের এ ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলেও উঠে এসেছে টনক নড়ার মতো চমকপ্রদ তথ্য। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘নিয়মের বাইরে গিয়ে যে কোনো কিছুই করা অপরাধ। তবে যদি এই অপরাধের কোনো জবাবদিহিতা অথবা বিচার না থাকে তাহলে সেখানে সর্বোচ্চ পরিমাণে নিয়ম লঙ্ঘন হয়। যা আমরা এ দুর্ঘটনায় স্পষ্ট দেখতে পাই।’
দুর্ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। পরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন তুলে ধরেন চমকপ্রদ কিছু তথ্য। যেখানে সংশ্লিষ্ট সকলের উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, ‘প্রাইভেটকারের ওপর নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের যে ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে একই পরিবারের ৫ জন মারা যান সেই ক্রেনটির ছিল ভঙ্গুর প্রকৃতির। ক্রেনটি ছিল অনেক পুরাতন। এর ধারণক্ষমতা ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টন। আর গার্ডারের ওজন ছিল ৬০ থেকে ৭০ টন। গার্ডার তোলার কাজ করার সময় দুটি ক্রেন থাকার কথা থাকলেও ছিল একটি। যে ক্রেনটি ছিল সেটিও ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল। যা থার্ডপার্টি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিল্ড ট্রেড ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড মাসিক ভাড়ার চুক্তিতে ক্রেনটি সরবরাহ করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র্যাব আরও জানায়, ক্রেনের মূল অপারেটর আল আমিনের হালকা গাড়ি চালানোর অনুমোদন থাকলেও ভারী গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নেই। ২০১৬ সালে ক্রেন চালানোর প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এরপর ২-৩টি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২২ সালের মে মাসে বিআরটি প্রকল্পে ক্রেন অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন।
গ্রেপ্তার রাকিব ৩ মাস আগে প্রকল্পের হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করে। তার ক্রেন চালনা করার কোনও ধরনের প্রশিক্ষণ ছিল না। একটি গার্ডার স্থাপন শেষে দ্বিতীয় গার্ডার স্থাপনের সময় ক্রেনের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ওজনের গার্ডার উত্তোলনের জন্য ক্রেনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গার্ডারটি প্রাইভেট কারের ওপর ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তবে সাধারণ জনগণ বলছেন, অল্প একটু সতর্কতা অবলম্বন করলেই এড়ানো যেতো এই দুর্ঘটনা। তারা বলছেন, ক্রেন এবং গার্ডারের আয়তন যেটুকু জায়গা দখল করেছিলো বা যে জায়গা জুড়ে কাজ চলার কথা সে অংশটুকু জনসাধারণ। যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিলে দুর্ঘটনা ঘটতো না।
আবার অন্যদিকে সহকর্মী দিয়ে ক্রেন চালানোকে জবাবদিহির অভাব ও উদাসীনতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারা বলছেন, একমাত্র জবাবদিহির অভাব ও নিয়মিত তদারকি না করার কারণে এ রকম হতাশাজনক দুর্ঘটনা ঘটছে।









