নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শীতকালীন শাকসবজি চাষে বেড়েছে জৈব সারের ব্যবহার। বিগত বছরগুলোতে উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় সবজিচাষে জৈব সারের ব্যবহার দেখা গেলেও এবার প্রায় সব ক’টি ইউনিয়নে কৃষকরা জৈবসার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।
কৃষকরা জানায়, পূর্বের বছরগুলোতে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ও বারদি ইউয়িনের কৃষকরা জৈব সার ব্যবহার করতেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের বিভাগের পরামর্শ নিয়ে চলতি বছর উপজেলার সনমান্দি, নোয়াগাঁও, জামপুর, সাদিপুর ও শম্ভুপুরা ইউনিয়নের কৃৃষকরা শীতকালীন সবজির খেতে রাসায়নিকসার ব্যবহার না করে জৈব সার ব্যবহার করছে। কৃষকরা কচুরিপানার সঙ্গে গোবর পচিয়ে সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করছেন। এতে উৎপাদনের খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। শাকসবজিও বিষমুক্ত হয়েছে।
সনমান্দি ইউনিয়নের ঈমানেরকান্দি গ্রামের কৃষক নুর হোসেন জানান, চলতি বছর তিনি ২০ শতক জমিতে আগাম ফুলকপির আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি, ১২০ টাকা কেজি দরে ফুলকপি বিক্রি করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব সার ব্যবহার করে শাকসবজি চাষাবাদ করছি। ভালো ফলন ও খরচ কম হওয়ার কারণে আমরা লাভবান হচ্ছি।
এ এলাকার অধিকাংশ কৃষক এখন জৈব সার ব্যবহার করছেন। উপজেলায় সবজি উৎপাদনের গ্রাম হিসেবে পরিচিত বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া, হামছাদী, দামোদারদী, পঞ্চবটি ও উলুকান্দি গ্রামে গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কৃৃষকেরা জমিতে শাকসবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, ধনেপাতা, লালশাক, পালংশাক, শিম, কুমড়া, বেগুন, ডাঁটা, টমেটোসহ শীতকালীন নানা সবজি শোভা পাচ্ছে কৃষকদের জমিতে। যেসব কৃষক ফুলকপিসহ আগাম শীতকালীন শাকসবজি উৎপাদন করেছেন, তাঁরা জমি থেকে শাকসবজি তুলে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহম্মদ বলেন, ‘ জৈব সার ব্যবহার করার জন্য আমরা কয়েক বছর ধরে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। আমাদের কথায় সাড়া দিয়ে কৃষকেরা জৈব সার ব্যবহার করে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়েছেন।









