পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কাজ গত ৩ বছরেও শেষ হয়নি। নির্মাণকাজ সম্পন্ন না করেই ৩৯ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাজিতা গ্রামের মোল্লা বাড়ি সংলগ্ন চাপরখালী খালের ওপর ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। নির্মাণকাজ সম্পন্ন না করেই ৩৯ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একদিকে বাইপাস সড়ক না থাকায় বাঁশের পাটাতন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন জনসাধারণ। অপরদিকে পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাঁধ দিয়ে রাখায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা। তাই দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
উপজেলা এলজিইডি জানায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বরিশাল বিভাগের দক্ষিণ অঞ্চল আয়রণ ব্রিজের আওতায় মির্জাগঞ্জে ১৭টি ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে পটুয়াখালী এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এতে মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাজিতা গ্রামের মোল্লাবাড়ি সংলগ্ন চাপরখালী খালের ওপর গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কাজটি পায় বরগুনার বেতাগীর মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই দরপত্রের বাকি ১৬টি ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনো অবহেলায় পরে রয়েছে এ ব্রিজটি। দরপত্রে উল্লেখিত ব্রিজের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ না করলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করে ইতিমধ্যে ৩৯ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন ঠিকাদার।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুচ মোল্লা ও ইউসুফ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় নির্মাণ কাজের সময় কোনো লোককে কাছে আসতে দেয়নি ঠিকাদারের লোকজন। ব্রিজের পাইল ৮০ ফুটের পরিবর্তে ২০ ফুট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঢালাইয়ে পুরাতন ব্রিজের ইট সুরকি ব্যবহার করেছে। চলাচলের জন্য বাইপাস সড়ক নির্মাণ না করায় বর্ষা মৌসুমে চরমদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। পানির অভাবে কৃষি কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী খলিলুর রহমান খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাজটি বাতিল করে দিলেই আমি খুশি হবো।
কাজ তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন বলেন, ব্রিজটি তদারকিতে ছিলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল জলিল। তার অবসরের পর আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কী কারণে কাজ শেষ হয়নি তা আমি বলতে পারি না।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর পটুয়াখালী এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।









