রাস্তা-অবকাঠামো সংস্কার জরুরি
কুমিল্লার দাউদকান্তিতে শতবর্ষী ইলিয়টগঞ্জ বাজারে বেহাল দশা বিরাজ করছে। প্রতি বছর ইজারার মাধ্যমে বাজার থেকে কোটি টাকার বেশি আয় হলেও বাজারের রাস্তা ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে হয়নি কাক্সিক্ষত কোনো উন্নয়ন।
জানা যায়, সপ্তাহের দুইদিন হাটবার হওয়ায় কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সাপ্তাহিক মোকাম করে এ বাজারে। গরু ছাগল ভেড়া মহিষ ও গৃহপালিত অন্যান্য পশুপাখিও সপ্তাহের দুই হাটবার দিনে বিক্রয় করা হয়। বাজারটির বয়স এখন শত বছর পেরিয়ে গেছে। বর্তমানে এ বাজারে রয়েছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিভিন্ন ব্যাংকের চারটি এজেন্ট ব্যাংকিং ও পাঁচটি শাখা। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি কিন্ডার গার্ডেন, সাতটি প্রাইভেট ক্লিনিক, একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
বাজারের পাশে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস ও একটি পোস্ট অফিসসহ ছোট-বড় অসংখ্য মুদি মালামালের পাইকারি ও ফ্যাশন দোকানসহ কয়েকটি ভুসা মালের আড়ৎ। বাজারের পাশে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। বাজারের মাঝে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কালা ডুমুর নদ। শতবর্ষী বাজারটি জনদুর্ভোগের কারণে জৌলুস হারাতে বসেছে এখন। বাজারের উপরে প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাড়ি দিয়েই পণ্য আসে এ বাজারে। বড় বড় গাড়ি আসার ফলে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ চরমে ওঠে। বাজারের ড্রেনগুলো সংস্কারের অভাবে পানি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টি হলে কখনো কখনো এক ফিট গভীরতার পানি জমে যায়। আর সে পানি ড্রেন না থাকায় নামতে সময় লাগে তিন থেকে চার দিন। এর মাঝে আবারও বৃষ্টি হলে পানি নামার নিশ্চয়তাই দূর হয়ে যায়। এরফলে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা আসা যাওয়ার সময় অভিনব কায়দায় রাস্তা পার হয়ে বিদ্যালয় যাতায়াত করতে হয়। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা রোগীরা বিভিন্ন সময় রিকশা দিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। কখনো কখনো বড় গর্তের ফলে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বাজারে থাকা দুটি মসজিদ একটি মাজার ও মন্দিরে আগত লোকজনও রাস্তা কর্দমাক্তের কারণে বিপাকে পড়ছেন। মাংস বাজার ও শুটকি বাজারের দিকে গেলে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ কারণে দম বন্ধ হয়ে আসে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সে স্থান ত্যাগ করতে হয় ক্রেতাদের।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাই প্রেসিডেন্ট সাইফুল কবির আহমদ জানান, বৃষ্টি হলে ব্যাংকে আগত গ্রাহকরা কর্দমাক্ত হয়ে ব্যাংকে প্রবেশ করে। এতে ব্যাংকের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়। সেই সঙ্গে ব্যাংকের টাকা ক্যারি করতেও অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। অন্য আরেকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে স্থানীয় প্রভাবের কারণে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা জানান, চাল বাজারের দিকে দুটি ড্রেন থাকায় সেখানকার পানি অনেকটা নিষ্কাশন হয়ে যায়। গরু বাজারের গেইট থেকে পোস্ট অফিস পর্যন্ত একটি ড্রেন ও হাইস্কুল মার্কেটের মতিন মুন্সির দোকান থেকে জেনারেল হসপিটাল হয়ে কামারপট্টির শেষ অংশ পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ করতে এবং গরু বাজারের মুখ হতে বাজারের দক্ষিণ পাশে স্টিলের ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য উপজেলাতে আবেদন করা হয়েছে। তবে কি কারণে কাজ শুরু করা হচ্ছে না তার কারণ তিনি জানেন না।









