যশোর জংশন রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্ম সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে স্টেশনে যাত্রীধারণ সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি ট্রেনে ওঠা-নামা আরও সহজ হবে। বৃদ্ধি পাবে প্লাটফর্মটির উচ্চতা। আর এমনটি হলে বয়স্ক, নারী, শিশু ও রোগীদের ট্রেনের কোচে ওঠা-নামা সহজ হবে। এ উন্নয়ন কাজকে যাত্রীসেবায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
যশোর রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, স্টেশনের বতর্মান প্লাটফর্মটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১২২০ ফুট করা হচ্ছে। প্লাটফর্মে বিদ্যমান উচ্চতা বাড়িয়ে উন্নীত হচ্ছে ৩ দশমিক ৬ ফুটে। প্লাটফর্মে এখনকার উচ্চতা ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। সূত্রমতে, স্টেশন থেকে খুলনার দিকে যেতে ১২০ ফুট ও পশ্চিম দিকে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য বাড়ছে। এতে ব্যয় হবে কোটি টাকারও বেশি। এদিকে উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার ৪দিন পরই কাজ শুরু হয়েছে।
যশোর রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী চাঁদ আহম্মেদ জানান, কার্যাদেশ প্রাপ্তির পরপরই কাজ শুরু হয়েছে। স্টেশনের পূর্ব দিকে ১২০ ফুট ও পশ্চিম দিকে ১০০ ফুট প্লাটফর্র বাড়ানো হচ্ছে।
সরেজমিন স্টেশন এলাকায় গিয়ে প্লাটফর্ম সম্প্রসারণের এ কমযজ্ঞ চোখে পড়ে। স্টেশনের পশ্চিমপাশে যশোর জংশন লেখা সাইনবোর্ডটির পাশে দাঁড়ালে দেখা যায় নির্মাণ কাজের দৃশ্য। গভীর গর্তখুড়ে সেখানে ইট সিমেন্ট গাথুনি তুলছেন শ্রমিকরা। কেউ মাথায় করে ইট বয়ে আনছেন। রাজমিস্ত্রির সহযোগীরা গাথুনির ইট হাতে তুলে দিচ্ছেন। সিমেন্ট বালুর মিশ্রন মেখে চলছে সেগুলেরা গাথুনি। পাশে গর্ত খুড়ে রাখা মাটির স্তুপ। স্টেশনের আরেক প্রান্তে ওভার ব্রিজের পাশেও চলছে প্লাটফর্মের এরকম সম্প্রসারণ কাজ।
স্টেশন মাস্টার আইনাল হোসেন বলেন, উচ্চতা কমের কারণে বিদ্যমান প্লাটফর্মটি ট্রেনের বগির পাটাতনের সমান্তরাল না। তাই প্লাটফর্ম থেকে কোচের গেট বেশ অনেক উঁচুতে থাকে বলে যাত্রীদের ওঠা-নামায় সমস্যা হয়। এছাড়া অতিরিক্ত বগি সম্বলিত কোন ট্রেন স্টেশনে থামলে কোচের অনেকগুলোর প্লাটফর্মে সংকুলান হয় না। তখন যাত্রীদের আরও সমস্যা হয়। প্লাটফরম ছাড়িয়ে বাইরে থাকা কোচে উঠতে হয় চরম দুর্ভোগে। প্লাটফরমটির উচ্চতা বাড়লে এ সমস্যা ঘুচবে।
যশোর রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের ২২টি ট্রেন এ স্টেশনে থামে ও ছেড়ে যায়। এসব ট্রেনে প্রতিদিন কমপক্ষে ২ থেকে আড়াই হাজার ৫০০ যাত্রী ওঠানামা করে। প্লাটফর্মটির এ উন্নয়ন যাত্রী সেবায় নতুনমাত্রা যোগ করবে।
যশোর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ওয়ালি-উল-হক জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্মের উন্নয়ন কাজ চলছে। ১৬ ডিসেম্বরের আগেই এ উন্নয়ন কাজ শেষ করার সর্বাতœক প্রচেষ্টা চলছে। আর এটির সম্প্রসরাণের পাশাপাশি উচ্চাতা বৃদ্ধির কাজ শেষ হলে বয়স্ক মানুষ, রোগি, নারী ও শিশুদের ট্রেনের কোচ ওঠা সহজ হবে। উচ্চতা বাড়লে প্লাটফর্মে ফ্লোর ও কোচের পাটাতন সমতল এক হবে। তখন লাগেজ বহন করেও ওঠা নামাও কঠিন হবে না।
আনন্দবাজার/এম.আর








