- ক্ষতিপূরণ না দিয়ে আবারো ইটভাটা চালু
- প্রতিবাদে মানববন্ধন
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের ধুলা উদাল মাদ্রাসা মোড়ে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মানববন্ধন করেছেন। গতকাল সোমবার ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাসেল শাহীন, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা সঞ্জিত প্রসাদ জিতু প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে গত ১৩ ও ১৫ মে হামিদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলাশবাড়ী ও বাঁশপুকুর মৌজার ৩০০ একর জমির ২ কোটি টাকা মূল্যের আম ও ধানসহ ৩০ প্রকার ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে ৩ শতাধিক কৃষকের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি গত ২৩ মে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে দেয়া হয়েছে। গত ২ সেপ্টম্বর রংপুর বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিভাগীয় কমিশনারকেও স্মারকলিপি দেয়া হয়। এতকিছুর পরেও প্রশাসন কেবল ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ে বসে ছিলো। কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখতে না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। হামিদপুর ইউনিয়নের ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ফসলের ক্ষতিপূরণ ও অবৈধ ইট ভাটা বন্ধ করার জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে। হাইকোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে আদালতকে জানতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা জারি করেন।
কৃষক সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা সঞ্জিত প্রসাদ জিতু বলেন, ইটভাটার কারণে দিন দিন আমরা নিঃস্ব হচ্ছি। ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধানসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে যাচ্ছে। পরিপক্ক হওয়ার আগেই পঁচে ঝরে পড়ছে বাগানের আম, বিভিন্ন ফল, বাঁশ ঝাড়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘১৩ ও ১৫ মে ভোরে হামিদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলাশবাড়ি ও বাঁশপুকুর মৌজার এআরবি ব্রিকস, একে ব্রিকস, সোহাগী ব্রিকস, অর্ণব ব্রিকস, একতা ব্রিক্স ও জহুরা ব্রিকসের ছেড়ে দেয়া বিষাক্ত গ্যাস পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই মৌজার ৩০০ একর জমির ধান, ৫০টি আম বাগান, বাঁশ ও লিচু বাগান, কলা, নারিকেল, পেয়ারা, জলপাই, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের মাঠ নষ্ট হয়ে যায়।
বাংলাদেশ কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাসেল শাহীন বলেন, ইটভাটার কারণে প্রতিবছর এ এলাকার ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। চলতি বছর ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। আগামীতে যেন এ ধরনের ক্ষতির মুখে পরতে না হয় সেজন্য তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আজিজুর রহমান বলেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দিলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।









