পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলা রাজবাড়ী। পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শুরু হয়েছে বাদামের চাষ। নদীর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে চাষিদের এখন বাদাম লাগানোর ব্যস্ততা। এ বছর জেলার পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর, হাবাসপুর, শাহামীরপুর, চরআফড়া, চর রামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় পদ্মার চরে শুরু হয়েছে বাদামের আবাদ।
রাজবাড়ী জেলার মাটি ঊর্বর ও বাদামচাষে উপযোগি হওয়ায় বাদামের ফলন বেশি হয়। চরে পলি পড়া বালু মাটিতে বাদাম আবাদে সার কিংবা কীটনাশকের প্রয়োজন হয়না। রাজবাড়ির বাদামের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয় এ বাদাম।
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর পাংশা উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৩৭০ হেক্টরের বেশি জমিতে বাদাম লাগানো শেষ হয়েছে। বাদাম চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০০ হেক্টরে। চলতি মৌসুমে বিনা চিনা বাদাম-৪, বিনা চিনা বাদাম-৮ দুটি উন্নত মানের বাদামের বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে।
পাংশা উপজেলার কৃষক খলিল মন্ডল বলেন, ছোট বেলা থেকেই এ বাদাম চাষের সঙ্গে আমি জড়িত। গত বছর আমি ১০ বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছিলাম। ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘার জমির বাদাম উঠাতে পেরেছিলাম। আর দুই বিঘার জমির বাদাম উঠাতে পারিনি। কারণ অতি খরার কারণে তা পুড়ে গিয়েছিলো। গতবার আমার আট বিঘা জমিতে লাভ হয়েছিলো ১ লাখ টাকা।
কৃষক সালাম খান বলেন, বাদাম চাষে তেমন কোন খরচ নেই। চরের মাটি ঊর্বর হওয়ার কারণে আমরা শুধু বাদামের বীজ রোপন করি। ক্ষেতে তেমন সার বা কীটনাশক দিতে হয়না। রোপনের ৩ মাসের মধ্যে বাদাম তোলা যায়। সময় মত ফসল উঠিয়ে নেই। বিঘা প্রতি প্রায় ৮ মণ করে বাদাম উৎপাদিত হয়। তবে যদি অতিরিক্ত খরার সময়ে পানি দেই তাহলে বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ করে বাদাম উৎপন্ন করা সম্ভব।
পাংশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ জানান, আমাদের পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এবং বাহাদুরপুর পদ্মার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে বাদামের চাষ হয়। তবে এ বছর বাদাম চাষের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি। আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করছি এ বছর প্রায় ৭০০ একর জমিতে বাদাম চাষ হবে। আমাদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের মাঝে বাদাম বিতরণ করেছে এবং কৃষকরা নিজেদের মতো বাদামের বীজ সংগ্রহ করে বাদাম চাষাবাদ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের যে অগ্রগতি তাতে ৩৭০ হেক্টরের উপরে বাদাম লাগানো শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি যে প্রায় ৭০০ হেক্টরের উপরে বাদাম চাষাবাদ করতে পারবো। আমরা এ বছর বিনা চিনা বাদাম-৪, বিনা চিনা বাদাম-৮ দুটি উন্নত মানের বাদামের বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করেছি।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক এসএম সাহীদ নূর আকবার জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও পাংশা উপজেলায় বাদামের চাষ টার্গেটের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। বাদাম চাষাবাদে কৃষকদের নানাবধি সুপরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।









