এবছর দাফন ও দাহের পরিমাণ বেড়ে গেছে রাজধানী ঢাকাতে। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দাফন ও দাহ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। শুধু মে মাসেই গতবছরের মে মাসের তুলনায় যা বেড়েছে ৭০ দশমিক ২২ শতাংশ।
গত বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঢাকায় লাশ দাফন হয়েছে সাত হাজার ৪৪১টি। আর চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ১৮৬টিতে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) ৯টি কবরস্থান ও ২টি শ্মশান ঘাটের হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাবের কারণে লাশ দাফনের এমন সংখ্যা বাড়তে পারে। আর সরকারের পক্ষ থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিহত হওয়ার যে তথ্য জানানো হচ্ছে তা যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় মৃত্যুর এমন সংখ্যা বাড়তে বাড়তে পারে।
ঢাকার দুই সিটির অধীন ৯টি কবরস্থান ও দুটি শ্মশান ঘাটের হিসাব অনুযায়ী, এবছর ঢাকার ৯টি কবস্থান ও ২টি শ্মশানঘাটে জানুয়রিতে এক হাজার ৬৩৯টি, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ২৯২টি, মার্চে এক হাজার ৬১০টি, এপ্রিলে এক হাজার ৬৮৫টি ও মে মাসে দুই হাজার ৬৬৪টি লাশ দাফন হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ৫ মাসে লাশ দাফন হয়েছে ৯ হাজার ১৮৬টি। আর গত বছরের জানুয়ারিতে এক হাজার ৫৬১টি, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৩৪৯টি, মার্চে এক হাজার ৪৯৫টি, এপ্রিলে এক হাজার ৪৭১টি এবং মে মাসে এক হাজার ৫৬৫টি লাশ দাফন হয়েছে। সব মিলিয়ে গত বছরের প্রথম পাঁচ মাসে লাশ দাফন হয়েছে ৭ হাজার ৪৪১টি।
খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানের মোহরার ফেরদৌস জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে ২৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৯টি, মার্চে ৩৩টি, এপ্রিলে ৩১টি এবং মে মাসে ৩৪টি লাশ দাফন হয়েছে। সব মিলিয়ে কবরস্থানটিতে ওই ৫ মাসে ১৪৪ জনের লাশ দাফন হয়। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪১টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩৪টি, মার্চে ৫২টি, এপ্রিলে ৩৪টি এবং মে মাসে ৬৪টি লাশ দাফন হয়েছে। সব মিলিয়ে কবরস্থানটিতে গত ৫ মাসে ২২৫ জনের লাশ দাফন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই কবস্থানে ৫৬.২৫ শতাংশ লাশ দাফন বেশি হয়েছে। এতে করোনা প্রদুর্ভাবের মাস মে মাসে গত বছরের মে মাসের তুলনায় ৮৮.২৩ শতাংশ বেশি দাফন হয়েছে।
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের মোহরার সানোয়ার হোসেন জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে ১৫৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ১২৪টি, মার্চে ১৩১টি, এপ্রিলে ১৩৭টি ও মে মাসে ১২৭টি লাশ দাফন হয়েছে। সব মিলিয়ে কবরস্থানটিতে ওই ৫ মাসে লাশ দাফন হয়েছে ৬৭৬টি। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৫২টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৩৬টি, মার্চে ১৪২টি, এপ্রিলে ১৫১টি এবং মে মাসে ২০৮টি লাশ দাফন হয়েছে। সব মিলিয়ে কবরস্থানটিতে গত ৫ মাসে লাশ দাফন হয়েছে ৭৮৯টি। কবরস্থানটিতে গত বছরের তুলনায় এবছর ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব চেয়ে বড় ও কবরস্থান আজিমপুর কবরস্থানে গত বছরের জানুয়ারিতে ৭৬০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৬৮২টি, মার্চে ৭৫৫টি, এপ্রিলে ৭৩১টি এবং মে মাসে ৭৭৭টি লাশ দাফন হয়েছে। সব মিলিয়ে কবরস্থানটিতে ওই ৫ মাসে তিন হাজার ৭০৫ জনের লাশ দাফন হয়েছে। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৯৮টি, ফেব্রুয়ারিতে ৭৭৬টি, মার্চে ৭৪০টি, এপ্রিলে ৭৭৩টি এবং করোনা প্রদুর্ভাবের মাস মে মাসে এক হাজার ৭৪ জনের লাশ দাফন হয়েছে। সব মিলিয়ে কবরস্থানটিতে গত ৫ মাসে চার হাজার ১৬১ জনের লাশ দাফন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছরের প্রথম ৫ মাসে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি লাশ দাফন হয়েছে এই কবরস্থানে।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









