মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গণপরিবহণের অভাবে ঢাকা যাতায়াতে যাত্রী ভোগান্তি বেড়েছে। ঢাকা-মাওয়া-খুলনা এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলরত বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস শ্রীনগর উপজেলার কোনো যাত্রী ছাউনী থেকে যাত্রী উঠানো হচ্ছে না। পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই গণপরিবহণগুলো ভাঙ্গা থেকে যাত্রী বোঝাই করে আসায় এ অঞ্চলের কোনো যাত্রীকে বাসে নিচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ঢাকার সঙ্গে শ্রীনগরের দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। বাস ভাড়া ধরা হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাওয়া যাত্রীবাহী বাসগুলো এখন ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে মহাসড়কের শ্রীনগরে কোনো বাস স্ট্যান্ডে থামছে না। যাত্রী বোঝাই বাসগুলো সরাসরি ঢাকায় চলে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দুই একটি বাস মহাসড়কের কোনো কোনো স্থানে থামলেও বাসে সিট সংকটের কারণে এখানকার যাত্রীরা উঠতে পারছেন না। এতে বেশী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা।
লক্ষ্য করা গেছে, পদ্মা সেতুর উত্তর টোল প্লাজা থেকে দোগাছি, সমষপুর, মাশুরগাঁও, বেজগাঁও, ছনবাড়ি, ষোলঘর, হাঁসাড়াসহ মহাসড়কের উপজেলায় নিদিষ্ট বাস স্ট্যান্ডগুলোতে অসংখ্য নারী-পুরুষ যাত্রীর ভিড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা কোনো গণপরিবহণে উঠতে পারছেন না। এছাড়াও মহাসড়কের সার্ভিস লেনে লোকাল কিছু বাস আসা যাওয়া করলেও যাত্রীর অপেক্ষায় এসব বাসের পরিমাণ অনেকাংশেই কম। পাশ^বর্তী সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা ও কুচিয়ামোড়া এলাকায়ও একই দৃশ্য। গণপরিবহণের অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।
বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী মো. নাজমুল বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বেজগাঁও দাঁড়িয়ে থেকে কোনো বাস পাচ্ছিলাম না। পরে দোহার সড়ক থেকে আগত ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাসে উঠি। গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ঢাকা যাই। রাসেদুল হাসান জানান, ঢাকা থেকে ২৫০ টাকায় ভাঙ্গার টিকেট কেটে শ্রীনগরে আসি। রাশেদা বেগম বলেন, শিশু সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য ছনবাড়ি বাস স্ট্যান্ডে দেড়ঘণ্টা যাবৎ দাঁড়িয়ে আছি। কোনো ধরণের যাত্রীবাহী বাস এখানে থামছে না। স্থানীয়রা জানায়, গণপরিবহণের অভাবে অসংখ্য যাত্রী মহাসড়কে যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। উপজেলাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
মুন্সীগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ বকুল খানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ লাইনে বাসগুলো এখন খুলনা, শিবচর, ভাঙ্গা থেকে যাত্রী বোঝাই করে আসছে। এ জন্য লৌহজং, শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার যাত্রীরা বাসে উঠতে পারছে না। যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি ঈদুল আযহার পরে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।









