বাজারে ডিম ও মুরগির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় ক্ষুব্ধ ভোক্তারা। এমন প্রেক্ষাপটে ডিমের দাম তদারকি করতে অভিযানে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে ডিম কেনার কিংবা বিক্রির পাকা রসিদ নেই। সরকার নয়, দাম নির্ধারণ করে দেয় সমিতি।
অভিযানে দেখা যায়, ডিম ব্যবসায়ী সমিতি বিশেষ কৌশল বা ‘সিস্টেমে’ বাজারে প্রান্তিক পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ করে। পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত তাদের ওই ‘সিস্টেম’ অনুযায়ী ডিম বিক্রি চলছিল।
তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আমান উল্লাহ বলেন, গত তিন দিন ধরে যেভাবে দাম কমতে শুরু করেছে তাতে শিগগির ডিমের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাজারে ডিমের দাম তদারকি করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয় প্রধান আব্দুল জব্বার মণ্ডল ও প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জামান রাজধানীর কাওরানবাজার মনিটরিং করেন। সেখানে দেখতে পান ডিম কেনার কিংবা বিক্রির পাকা রসিদ নেই বিক্রেতাদের কাছে। অর্থাৎ কত দামে কেনা হচ্ছে আর কত দামে বিক্রি হচ্ছে তার দালিলিক কোনও প্রমাণ নেই। এ সময় দোকানদাররা জানান, ডিমের দাম সমিতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।
ভোক্তা কর্মকর্তারা জানান, সমিতি কোনোভাবেই দাম নির্ধারণ করে দিতে পারে না। এ সময় ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কথা বলতে এলে কর্মকর্তারা জানতে চান, প্রান্তিক পর্যায়ে চাষিদের কাছ থেকে মূল্য নির্ধারণ না করে কেন চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে? জবাবে তিনি বলেন, এটা আগে থেকেই চলে আসা সিস্টেম।
সভাপতি জানান, আমাদের সিস্টেম এটাই। আগে থেকেই এরকম, আমরা দাম বাড়াইনি। যারা খামারিরা রেট করে না, কিছু কোম্পানি রেট নির্ধারণ করে দেয়। আমাদের এখানে আসার পরে রেট নির্ধারণ করা হয়। সমিতি থেকে যদি ১৬০ টাকা বলা হয়ে সেটাই নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে। এরকম করার সুযোগ নেই।
এ সময় অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
এরমধ্যে হিমালয় ট্রেডার্স ডিমের আড়ত ও মা মনি ডিমের আড়তকে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা এবং সততা মুরগির আড়তকে ২০ হাজার টাকা ও আলহাজ এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।









