যে নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল আদি রংপুর-সেই ইছামতির নামও ভুলতে বসেছে এখানকার মানুষ। অথচ এ ইছামতির পাশে গড়ে উঠেছিল এ অঞ্চলের বৃহত্তম বন্দর মাহিগঞ্জ। দেশবিদেশ থেকে অসংখ্য বড় বড় জাহাজ আসতো এ নদীর পাড়ে। বিশাল বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল মাহিগঞ্জ।
১৮৮৭ সালের ভয়াবহ বৃষ্টিপাত আর বন্যায় তিস্তা নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করলে ইছামতির প্রবাহ কমে আসে। কথিত আছে পীর হযরত শাহজালাল বুখারি (রহ.) মাছ সাদৃশ নৌকায় করে ইছামতি নদী দিয়ে মাহিগঞ্জ এসেছিলেন বলে এলাকাটির নাম হয়েছিল মাহিসওয়ার থেকে মাহিগঞ্জ। বর্তমানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় নেই এ নদীর নাম। বর্তমানে এ নদীর একটি ক্ষীণ ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। মাহিগঞ্জের পশ্চিমে শ্যামাসুন্দরী খালের সঙ্গে এ নদীটির সংযোগ রয়েছে।
মাহিগঞ্জের উত্তর-পশ্চিমে নাচনিয়ার বিলে অন্য প্রান্ত যুক্ত আছে। নদীটির প্রতি সরকারের কোনো যত্ন নেই। এমনকি রংপুর সিটি করপোরেশনও নদীটি রক্ষণাবেক্ষণে কখনো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এ নদীর পাশে যারা নতুন বসতি গড়েছেন তারা এ নদীটির নামই জানেন না। তবে নদী পাড়ের প্রবীণ লোকজনদের ভাষ্য হচ্ছে এ নদীর নাম ইছামতি। এ নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল আদি রংপুর শহর।
দীর্ঘদিন নদী নিয়ে কজি করেন রিভারাইন পিপলের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী একটি নদী ইছামতি। এ নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রংপুরের সংস্কৃতির বিকাশ, সভ্যতার বিনির্মাণ। এরকম একটি নদীকে আমাদের অবশ্যই বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। শুধু বর্ষা মৌসুমে নয়, বারোমাসই এ নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব- যদি সরকার এ নদী রক্ষাসহ এর সৌন্দর্য বিকাশের কাজ করে।
আনন্দবাজার/এম.আর









