একদিন পরেই ঈদ। কিন্ত সারা মাসের বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা পাড়ের মানুষের ঈদ আনন্দ। বাড়িঘর, ফসল, সহায়-সম্বল হারিয়ে মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে ঘুরছে। অনেকেরই ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। বন্যার ধাক্কা সামলাতেই এখন ব্যস্ত তারা। চারিদিকে শুধু পানি আর পনি। প্রবল স্রোতে সাথে চলছে নদীভাঙন। সব হারিয়ে বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর জীবনে লাগেনি ঈদের রং।
বেঁচে থাকাটাই যখন নিরন্তন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে অসহায় কৃষক পরিবারের, তখন ঈদ কোনো উৎসব হিসেবে দাঁড়ায়নি। এখানে হাত না চললে যাদের পেটে ভাত জোটে না, ঈদের মতো উৎসবের দিনটি তাদের কাছে ভাবলেশহীন।
করোনা তাণ্ডবের সাথে এবার যোগ হয়েছে বন্যা। তার ওপর নদীভাঙন যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। সব মিলিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষগুলো সন্তানের মুখে তুলে দেওয়ার মতো দুই টুকরো মাংস জোটাতে না পেরে বুকে তীব্র ব্যথা নিয়েই পার করবেন এবারের ঈদ।
যমুনা নদীর চরে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি বন্যায় ঘর-দুয়োর, ধান-চাল, জামা-কাপড়, হাঁস-মুরগিসহ সবকিছু বানের জল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ঘরে একমুঠো খাবার নেই। কোরবানি দেওয়াটা সামর্থ্যবান অনেকের জন্যও এবার কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জানান, একদিকে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা আরেকদিকে বন্যা আর ভাঙন। এখন আমাদের কিছুই অবশিষ্ট নাই। গরিব মানুষের ঈদ কি? আমাদের নাই ঈদ, কুরবানি নাই। এবার ঈদ কাটবে আর দশদিনের মতো।
ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, বন্যায় তার ইউনিয়নে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে দেড় হাজার পরিবার। নদীভাঙনে গৃহহীন হয়েছে কমপক্ষে ২০০ পরিবার। এসব মানুষের পক্ষে আনন্দের সাথে ঈদ করা সম্ভব না। এমনকি অবস্থাসম্পন্ন অনেকের পক্ষেই কোরবানি দেওয়া সম্ভব হবে না এবার। বন্যার এ ধকল কাটিয়ে উঠতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।
আনন্দবাজার/তা.তা









