শরীয়তপুরে পা ফোলা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হন সুশান্ত কর্মকার। করোনার আশঙ্কায় তাঁকে রাখা হয়েছিল আইসোলেশন ওয়ার্ডে। পরে বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর আত্বীয়স্বজন ও গ্রামবাসী কেউ আসেননি তার লাশ দেখতে। এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্যও এগিয়ে আসেনি কেউ। ছেলের লাশের পাশে মা গঙ্গা রানী কর্মকার আহাজারি আর আর্তনাদ করে যাচ্ছিলেন। ফোনে স্বজন, অন্য সন্তান আর গ্রামবাসীকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছিলেন। তবে কেউ তাঁর আর্তনাদে সাড়া দেননি। এমনকি সুশান্তর বড় ভাই, চার বোন ও বোনের পরিবারের সদস্যরাও ফিরে তাকাননি।
পরে শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজন পাল উদ্যোগ নেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মন্দিরের শ্মশানে ওই যুবককে দাহ করা হবে। কিন্তু দাহ করার কাজে যুক্ত হতে কেউ রাজি হচ্ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন পড়ে বিপাকে। তখন লাশ দাহ না করে বিকল্প ভাবতে থাকে প্রশাসন।
অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক ও নড়িয়া উপজেলার তিন যুবক দাহকাজ করতে রাজি হন। পরে তাঁদের সহযোগিতায় ছেলে মারা যাওয়ার ২১ ঘণ্টা পর বেলা পৌনে একটার দিকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে ডিঙ্গামানিকে শ্রীশ্রী সত্য নারায়ণের সেবা মন্দিরে রওনা হন বৃদ্ধ গঙ্গা রানী কর্মকার।
আনন্দবাজার/এফআইবি








