- ভোগান্তিতে ৫০ হাজার মানুষ
নদীতে সেতু না থাকায় ফসলি জমিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করতে খুবই কষ্ট হয়। আদিযুগের লাঙলে চাষ করে জমিতে ফসল ফলাতে বেশি নির্ভরসহ উৎপাদিত ফসল ঠিকমতো ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। এ ছাড়া নদীর পশ্চিম তীরে কোনো বাজার বা হাট না থাকায় পূর্বতীরের হাটবাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় তাদের। নবীণ গ্রামের লোকজন তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে না পেরে পশ্চিম তীরের মানুষ খুব কষ্টে দিনযাপন করে আসছে
পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের কাটা নদীতে সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। উপজেলার পাকপাড়া গ্রামে বয়ে চলা হান্ডিয়াল কাটা নদী। এ নদীতে সেতু না থাকায় কয়েক হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হিমশিম খাচ্ছেন মৌলিক চাহিদা মিটাতে। বিশেষ করে, কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করা, জমিতে সার ওষুধ ও উৎপাদিত ফসল পরিবহণ, জমির ফসল ক্রয়-বিক্রয়ে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত অসুবিধাসহ অসুস্থ লোকজনকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
যুগের পর যুগ যে কোনো প্রয়োজনে নদীর পূর্বপাড়ে আসতে হলে তাদের নদীতে খেয়া পার হয়ে আসতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে তাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। বিশেষ করে নবীণ ও চরণবীন গ্রামে শিক্ষার্থীদের নদীর পূর্বপাশে স্কুল ও কলেজগুলোতে যাতায়াতে চরমদুর্ভোগ পোহাতে হয়।
নদীর পূর্ব পাশে রয়েছে পাকপাড়া গ্রাম। ওই গ্রামের মানুষের অধিকাংশই ফসলিজমি রয়েছে নদীর পশ্চিম পাশে। নদীতে সেতু না থাকায় ওই ফসলি জমিগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করতে খুবই কষ্ট হয়। আদিযুগের লাঙলে চাষ করে জমিতে ফসল ফলাতে বেশি নির্ভরসহ উৎপাদিত ফসল ঠিকমতো ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। এ ছাড়া নদীর পশ্চিম তীরে কোনো বাজার বা হাট না থাকায় পূর্বতীরের হাটবাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় তাদের। নবীণ গ্রামের লোকজন তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে না পেরে পশ্চিম তীরের মানুষ খুব কষ্টে দিনযাপন করে আসছে।
স্বাধীনতার পর একক স্বেচ্ছাশ্রমে তিন গ্রামের মুষ্টির চাল ও ধানের বিনিময়ে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াতের সুবিধা সৃষ্টি করেন ঘাটের মাঝি। হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও পাকপাড়া মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, তাদের বাড়ি নদীর পশ্চিম পাড়ে। তবে স্কুল পূর্বপাড়ে। নদীতে সেতু না থাকায় তারা সময়মতো স্কুলে আসতে পারেনা। সারা বছরই নদী পার হয়ে স্কুলে আসতে হয় তাদের। নদী পার হয়ে স্কুলে আসা বা যাওয়ার সময় মাঝে মধ্যে হাত থেকে বইখাতা পানিতে পড়ে ভিজে যায়। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টিতে নৌকাডুবির আশঙ্কা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় আসা যাওয়া সম্ভব হয় না।
চাটমোহর উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য মতে, ২০১১ সালে আদম শুমারী অনুযায়ী হান্ডিয়াল ইউনিয়ন এলাকায় লোকসংখ্যা ২৮ হাজার ২৯১ জন। ছাইকোলা ইউনিয়ন এলাকায় ২৯ হাজার ২০৯জন। এ জনসংখ্যার বেশিরভাগ জনসাধারণ তাদের পারিবারিকসহ দৈনন্দিন কাজের জন্য ওই রাস্তা ও সেতু একমাত্র ভরসা।
এ বিষয়ে হান্ডিয়াল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রবিউল করিম মাস্টার বলেন, নদী পারাপার হয়ে হান্ডিয়াল ও ছাইকোলা দুই ইউনিয়নের মানুষ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। কাটা নদীতে সেতু না থাকায় দুই ইউনিয়বাসীর রাস্তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় ৪ কিমি. রাস্তার সমস্যার জন্য অন্তত ১৫ কিমি. রাস্তা ঘুরে যোগাযোগ করতে হয় দুই ইউনিয়নবাসীর। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিনের সেতু ও রাস্তার কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে গ্রামবাসী স্থানীয় সরকারের কাছে সেতু নির্মাণের দবি জানাচ্ছি।
চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সুলতান মাহমুদ বলেন, সেতুটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ সেতু নির্মাণ হলে দু’টি ইউনিয়নবাসীর সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে। সেতুটি নির্মাণের জন্য এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রকল্প-পরিকল্পনা পাঠানো হবে।









