- চালু হচ্ছে ৩ মেগা প্রকল্প
- ১০ প্রকল্প অনুমোদন
ঢাকার মতো দেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামসহ দেশের সব বড় শহরে যেখানে বিমানবন্দর আছে সেখানে মেট্রোরেল হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের বিস্তারিত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃতি করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল শুধু ঢাকাতে থাকবে কেন, চট্টগ্রামের জন্যও মেট্রোরেল প্রকল্প নিতে হবে। অন্যান্য শহরগুলোতে মেট্রোরেল করতে না পারলেও মেট্রোরেলের মতো অন্য সার্ভিস চালু করতে হবে। তবে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সে বিষয় তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
সভায় ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ১১ হাজার ২১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সভায় পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেল চলতি বছর খুলে দেওয়ার বিষয়ে একনেক সভায় আলোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে খুলে দেওয়া হবে। কর্ণফুলী টানেল চলতি বছরের অক্টোবরে খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া মেট্রোরেল খুলে দেওয়া হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে জুনে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে। চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু টানেল ২০২২ সালের অক্টোবরে চালু হবে। অন্যদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরে চালু হবে মেট্রোরেল প্রকল্প। শুধু পদ্মা সেতু চালু হলে ১ দশমিক ২ শতাংশ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি বাড়বে। মেট্রোরেল নিয়ে এখনো প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়নি। সব মিলিয়ে প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।
জনশুমারি পিছিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কোভিডের কারণে সবকিছু পরিবর্তন হয়েছে। অনেকগুলো শক্তি কাজ করেছে। সরকারের পারচেজ কমিটি আমারও ওপরে। পারচেজের ব্যাপারে কিছু বলব না। পারচেজ কমিটি ট্যাব কেনা নিয়ে বিভিন্ন ত্রুটি পেয়েছেন। জনশুমারি সঠিক সময়ে করতে পারলাম না, আমিও খুশি নই।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কগুলো উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য লজিস্টিক্স ও ফ্লিট মেইনটেন্যান্স ফ্যাসিলিটিস গড়ে তোলা। কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ককে জাতীয় মহাসড়ক মানে চার লেনে উন্নীতকরণ। বাংলাদেশ টেলিভিশনের কেন্দ্রীয় সম্প্রচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন প্রকল্প। মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প।
এছাড়া আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। বরগুনা জেলার অধীন পোল্ডার ৪৩/১ ও ৪৪বি পুনর্বাসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পায়রা নদীর ভাঙন হতে প্রতিরক্ষা প্রকল্প। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলায় ব্রক্ষ্মপুত্র নদের ডানতীর ভাঙনরোধ প্রকল্প। পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্প ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মীরসরাই প্রথম পর্যায় প্রকল্প।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন-আল-রশীদ, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগমসহ পরিকল্পনা কমিশনের অন্য সদস্যরা।
আনন্দবাজার/শহক









