সাইনবোর্ডে সাবধাণ ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু, ভারি যানবাহন চলাচল নিষেধ লেখা থাকার পরেও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়তই ভারি-হালকা যানবাহন চলাচল করছে। এখানে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বড় যানবাহন চলাচল বন্ধে সেতুর দুই প্রান্তে প্রতিবন্ধকতা খুটি স্থাপন করেছে সড়ক বিভাগ
নীলফামারীর ডিমলায় জোড়াতালির বেইলি ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। উপজেলা সদর ও নাউতারা সড়কের নিজপাড়া গ্রামের খালের উপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি সংস্কারের অভাবে নড়বড়ে ও বেহাল দশা। কোথাও কোথাও স্টিলের পাত ভেঙে পড়েছে। আবার কোথাও মরিচা পড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসী, পথচারী ও যানবাহন চলাচল করছে। এতে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। যোগাযোগ সহজ না হওয়ার থমকে গেছে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। দ্রুত ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সড়ক বিভাগ জানায়, প্রায় ৬০মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে ব্রিজের অবস্থা এখন নাজুক। ব্রিজের সামনে সড়ক বিভাগ থেকে সতর্ক বার্তা লিখে সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে। সাইনবোর্ডে সাবধাণ ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু, ভারি যানবাহন চলাচল নিষেধ লেখা থাকার পরেও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়তই ভারী-হালকা যানবাহন চলাচল করছে। ফলে মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া বড় যানবাহন চলাচল বন্ধে সেতুর দুই প্রান্তে প্রতিবন্ধকতা খুটি স্থাপন করেছে সড়ক বিভাগ।
সরজমিনে জানা যায়, অতি প্রয়োজনীয় এ ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বছর দশেক আগে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙা ব্রিজেই প্রায় ৩০টি গ্রামের বাসিন্দাদের মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই পারাপার হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ। এতে যে কোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী জানান, এটি উপজেলা সদরের সাথে পাশ^বর্তী তিনটি ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপনকারী ব্রিজ। এ ব্রিজে দু’ একটি ছোট যানবাহন কিংবা লোকজন উঠলেই নড়েচড়ে উঠে ও কাঁপতে থাকে। বিশেষ করে স্কুলগামী ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে ও বৃদ্ধদের চলাচল করতে অসুবিধা হয়। পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ফসল বিক্রির জন্য উপজেলা সদরে যেতে তাদের নানা দুর্ভোগে পোহাতে হয়।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেইলি ব্রিজ দিয়ে নছিমন ভর্তি বাঁশ বহন করতে দেখা যায় চালক আনারুল ইসলামকে। তিনি জানান, বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করি। এ রাস্তা ছাড়া আমাদের বিকল্প রাস্তাও নেই। তাই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নছিমন নিয়ে বেইলিব্রিজ পার হই।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম জানান, পুরাতন বেইলি ব্রিজের স্থলে আরসিসি ব্রিজ তৈরির জন্য একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রণায়ের অনুমোদন শেষে দরপত্র আহ্বান করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব বেইলি ব্রিজের সমস্যার সমাধান করা হবে।









