দেশের এক মাত্র প্রবালদ্বীপের নাম সেন্টমার্টিন। নামটি শুনলে ভ্রমণের ইচ্ছে হয় না এমন ভ্রমণপিপাসু মানুষ দেশে হয়তো একজনও খোঁজে পাওয়া যাবে না। তাঁদের জন্য সুখবর হচ্ছে বৈশ্বিক মহামারি করোনা থেকে এখনো মুক্ত সেন্টমার্টিন। অর্থাৎ দীপটির বাসিন্দাদের একজনও এখনো পর্যন্ত কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি।
অথচ এরই মধ্যে পর্যটন নগরী খ্যাত কক্সবাজার জেলা করোনার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।
রবিবার ৭জুন জেলায় করোনা রোগির ছাড়িয়েছে হাজার।সারাদেশের পরিসংখ্যানে ৬৪ জেলা মধ্যে কক্সবাজার জেলা করোনা আক্রান্তের শীর্ষ ৪তুর্থ স্থানে। দেশের এ ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে প্রেরণা ও শিক্ষার উদাহরণ হতে পারে করোনা মুক্ত প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.টিপু চদ্র শীল এর দেয়া তথ্যমতে টেকনাফে সোমবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮জন। উপজেলা থেকে বিছিন্ন দীপ সেন্টমার্টিন ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের করোনা রোগি শনাক্ত হয়েছে।তা ছাড়া অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে করোনা টেস্টের জন্য নমুনা জমা আছে প্রচুর।হোম কোয়ান্টাইনে ও প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে আছেন অনেকই। কিন্তু উপসর্গ না থাকায় এখনো পর্যন্ত সেন্টমার্টিনের একজন মানুষকেও করোনা টেস্ট করাতে আসেনি।তবে সেন্টমার্টিনের জন্য আলাদা নমুনা সংগ্রকারী টিম প্রস্তুুত আছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
যেভাবে সেন্টমার্টিন এখনো করোনা মুক্ত
সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ জানান কক্নবাজার জেলা প্রশাসকের বরাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৯ মার্চ থেকে করোনার কারনে পর্যটক আসা যাওয়া নিষিদ্ধ করে প্রশাসন। ২০ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় জাহাজ চলাচল। ওইদিন থেকে আর বাইরের কাউকে দ্বীপে ঢুকতে দেননি তিনি। এমন কি বাইরে থাকা দ্বীপের বাসিন্দাদেরও সেখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি। মাইকিং করে সেন্টমার্টিন থেকে বের করে দিয়েছেন অবস্থানরত পর্যটকদের।পাশাপাশি সমান তালে স্থানীয়দের মাঝে চালিয়েছেন সচেতনতার প্রচারনা। সে কারনে সেখানে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়নি। এমন কি সেন্টমার্টিনের কোনো বাসিন্দার মাঝে করোনার উপসর্গও দেখা যায়নি।
মোহাম্মদ আরও জানান,নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিশপত্র কেনাকাটার কারনে প্রতিদিন ট্রলারে করে টেকনাফে যেতে হয় দ্বীপের শতাধিক বাসিন্দাকে। তাঁদেরকে কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব মানতে বাধ্য করা হয়।
চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ এর মতে, সরকার যদি সেন্টমার্টিন বাসীর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিশপত্র ও ত্রাণ সরবরাহ করে- সেন্টমার্টিন শেষ পর্যন্ত করোনা থেকে নিরাপদ থাকবে।না হয় টেকনাফে আসাযাওয়া লোকজনদের মাধ্যমে করোনা আমদানি হতে পারে বলে আসংখ্যা তাঁর।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, সামাজিক করোনা রোধে নিয়ম নীতি মানলে যে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তার প্রমাণ সেন্টমার্টিন।সবারই উচিৎ সেন্টমার্টিনকে অনুসরণ করে পথ চলা। ভবিষ্যৎতে ও সেন্টমার্টিনকে করোনা মুক্ত রাখতে সম্ভব্য সব কিছুই করা হবে বলেও জানিয়েছেন ডিসি কামাল হোসেন।
আনন্দবাজার/এফআইবি









