দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার কাটলা-পাটনচড়া আঞ্চলিক সড়কের খালের ওপর নির্মিত সেতুর মাঝে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে সেতু দিয়ে মানুষ ও যান চলাচল করছে। যে কোনো মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। দেখার কেউ নেই।
স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাস ধরে সেতুটির মাঝে ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলা গর্তটি সহজে দেখা গেলেও রাতে চলাচলকারী যানবাহন এতে দুর্ঘটনায় পড়ছে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার না করলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা অফিস জানান, সেতুটি নব্বইয়ের দশকে তৈরি। এরই মধ্যে ওই সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে পাটনচড়া বাজারের পূর্বপাশে সেতুটির অবস্থান। সেতুটির পূর্ব এবং পশ্চিম অংশে নতুন করে সড়ক পাকাকরণের কাজ চলমান। সেতুটির উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, পিকআপসহ মানুষ চলাচল করছে।
স্থানীয় দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লোক এ সেতুটি ব্যবহার করেন। এছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভাইগড় কোম্পানির সদস্যদের শহরে আসার অন্যতম সড়ক এটি।
খিয়ার মাহমুদপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, প্রায় তিন মাস ধরে সেতুটির মাঝের অংশে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ছোট-বড় ট্রাকসহ এ সেতুটি দিয়ে ভারি যান চলাচল করে। যে কোনো সময় এ সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে। আগের কাঁচা রাস্তটি পাকা হলেও নতুন করে সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে না। এতে পথচারীরা অনেকটা ঝুঁকিতে রয়েছেন।
উপজেলার ২নং কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউনুস আলী মন্ডল জানান, মাঝের অংশে ভেঙে যাওয়া সেতুটি অনেক আগে নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুতে গর্তের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
বিরামপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সরদার জানান, কাটলা-পাটনচড়া বাজারের আঞ্চলিক সড়কের ওপর সেতুটির মাঝের অংশ ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা ওই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ আসলেই নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।
বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু জানান, কাটলা-পাটনচড়া বাজারের আঞ্চলিক সড়কের উপর সেতুটির মাঝের অংশ ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।









