ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বেশ কয়েক দিন থেকেই প্রকৃতিতে শীতের আমেজে শুরু হয়েছে। দিনের বেলায় কিছুটা গরম অনুভূত হলেও সন্ধ্যা নামার পর পর কুয়াশা জড়িয়ে ধরছে প্রকৃতিকে। মাঝরাত থেকে শীত অনুভূত হচ্ছে। প্রতিদিনই একটু একটু করে কমছে তাপমাত্রা। কুয়াশা যেন ঢেকে আছে মাঠ ঘাট। সেইসঙ্গে হিমেল হাওয়া রয়েছে। তবে হালকা শীতের অনুভূতি জাগিয়ে দিয়েছে মানবজাতিসহ সকল প্রাণিকে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কার্তিক মাসে শীতের জন্ম হয়ে থাকে। তাই কুয়াশা আর শিশির কনা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তার। তাছাড়া সকাল সন্ধ্যা গাছের পাতায়, ঘাসের ডগায় ও সোনালি ধানের শীষের উপর মুক্তার মতো শিশির কনা পড়ছে।
এদিকে শুক্রবার ভোর রাত থেকেই ঘন কুয়াশায় দেখা মিলেছে। কুয়াশায় সকাল ৯টা পযর্ন্ত ডাকা পড়ে থাকে সূর্যের। এতে হেড লাইট জ¦ালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
আখাউড়া স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, শীত আসতে শুরু করায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাস কষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এসময় সকলকে শতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে মাঝ রাত থেকেই শীত অনুভূত হচ্ছে। কেউ কেউ রাতে কাঁথা-কম্বল জড়িয়ে নিচ্ছেন। তাছাড়া সন্ধ্যা থেকেই কুয়াশা পড়ছে। মাঠ-ঘাট, ঘাসের ডগা, গাছপালা, ধানের পাতায় শিশির জমে থাকছে।
এদিকে শীতের আগমনি বার্তায় স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে শোভা পাচ্ছে নানা রকমের শীতের গরম পোশাক। ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেটে শীতের পোশাক দোকানিরা তুলেছেন।
ব্যবসায়ী আল-আমিন মিয়া বলেন, শীতের আগমনী বার্তায় শীতের পোশাক দোকানে উঠানো হয়েছে। শীতের পোশাক বিক্রি শুরু না হলেও বাচ্চাদের পোশাক কিছু বিক্রি হয়েছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে বেচাকেনা শুরু হবে।
মো. বাছির মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ভোর বেলায় কুয়াশা দেখা দেওয়ায় শীতশীত অনুভূত হচ্ছে। তাছাড়া দিনের বেলাতে গরমও কিছুটা কমে আসছে।
রিকশা চালক আলফু মিয়া বলেন,গত কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যা থেকে সকাল পযর্ন্ত কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। তবে কুয়াশার কারণে ঠন্ডা লাগায় রাত ১১টার পর আর তিনি বাহিরে থাকেন না বলে জানায় ।
গৃহিণী লিমা আক্তার বলেন, গত কয়েক দিন ধরে কুয়াশার কারণে তার এক ছেলের ঠান্ডা ও জ¦র হয়েছে। উপজেলা স্বা¯’্য কমপ্লেক্সে চিকিৎক দেখিয়ে ওষধ খাওয়া হচ্ছে বলে জানায়।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্ব্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হিমেল খান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে শীতের আমেজ লক্ষ করা যাচ্ছে। শীতের সময়ে রোগ বালাইয়ের প্রকোপ দেখা দেয়। প্রতিদিন হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া নানা বয়সি রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি নেই।









