ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-বাইপাস (এশিয়ান হাইওয়ে) সড়কের সংযোগ সড়ক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা কাঁচপুর-নয়াপুর সড়কটি খানাখন্দে যান চলাচলেন অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান সড়কটিতে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে খালে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি এলে রাস্তাটিতে হাটু পরিমাণ পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এ এলাকার বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কাচঁপুর ইউনিয়নের কাচঁপুর হাইওয়ে থানার সামনে থেকে গঙ্গাপুর ও সাদিপুর ইউনিয়নের রতন মার্কেট থেকে নয়াপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে সড়কের চলাচলরত পরিবহন, যাত্রী, চাকরিজীবি, ব্যবসায়ী, স্কুল/কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয়রা জানান, কাচঁপুর ও সাদিপুর ইউনিয়ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা হিসেবে পরিচিত। কাচঁপুর ইউনিয়নে সাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও সাদিপুর ইউনিয়নের সাথে ঢাকা-বাইপাস (এশিয়ান হাইওয়ে) সড়ক রয়েছে। এই দুই সড়কে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক ছোট বড় কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক কাচঁপুর ও সাদিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে মিল কারখানায় কাজ করেন। এসব শ্রমিকরা প্রতিদিন কাচঁপুর-গঙ্গাপুর ও রতন মার্কেট-নয়াপুর সড়ক ব্যবহার করে তাদের কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।
নন্দীপুর গ্রামের যুবলীগ নেতা এইচ এম জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতিদিন গঙ্গপুর-কাচঁপুর সড়ক দিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। সড়কটি এমন অবস্থা গাড়ি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই বড় বড় গর্তে পানি জমে সড়ক হয়ে যায় খালের মত। সড়কটিতে পানি জমে থাকার কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করার দাবী জানান তিনি।
আটোরিকসা চালক আমির হোসেন বলেন, সড়কটি এত ভাঙ্গা যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালাতে পারছি না। ভাঙ্গার কারনে গাড়ি অনেক সময় যাত্রী নিয়ে উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গাড়ির বিভিন্ন যত্রাংশ ভেঙ্গে যায়। এতে আমাদের গরীর মানুষ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
সিএনজি চালক আবুল হোসেন জানান, মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ করে দেয়ার পর আমরা কাচঁপুর-গঙ্গাপুর সড়কে যাত্রী পারাপার করি। প্রায় ৫ বছর যাবৎ সড়কটি বড় বড় গর্ত হয়ে এমন অবস্থা হয়েছে গাড়ি চালাতে পাড়ছি না।
দক্ষিণপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম বলেন, সড়কটি ভাঙ্গার কারনে গর্ভবতী নারীসহ রোগীদের হাসপাতালে নিতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করলে রোগীসহ মানুষের চলাচলে অনুপযোগী হয়ে যাবে। চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে সকল পরিবহন।
ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, কাচঁপুর থেকে বিক্রির জন্য দোকানের মালামাল ক্রয় করে নিয়ে আসতে চাইলে কোন পরিবহন এ সড়ক দিয়ে আসতে চায় না। যদিও কোন গাড়ি আসে তাহলে তিনগুন ভাড়া দিয়ে মালামাল আনতে হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী আরজুরুল হক বলেন, সড়কটি সত্যিই অনেক খারাপ তাই দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করনের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলে দ্রুত সংস্কার করা হবে।









