- এনবিআরের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ব্যবসায়ী নেতাদের
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী নেতারা। এসময় এনবিআরের ভ্যাট আইনকে কালো আইন উল্লেখ করে তা সংশোধনের দাবি জানায় এফবিসিসিআই’র সভাপতি জসিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনসহ ব্যবসায়ী নেতারা। শনিবার বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ঢাকা মহানগর উত্তরের পরিচিত সভায় এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
ক্ষোভ শুরু ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) নিয়ে। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি রোধে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। শুরুতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বড় শহরে ১০ হাজার ইএফডি বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। যদিও মেসিন সংকটে তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এনবিআর থেকে আমাদের বলা হলো ইএফডি মেশিন বসাতে হবে। আমরা রাজি হলাম। সিদ্ধান্ত হলো সরকারি এই সংস্থা থেকে আমাদের মেশিন সরবরাহ করা হবে। শুরুতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বড় শহরে ১০ হাজার ইএফডি দেয়ার কথা হয়। যদিও আমাদের মিনিমাম পাঁচ লাখ মেশিন প্রয়োজন ছিলো। পরে আমাদেরকে জানানো হয় সরবরাহ কম তাই সব দোকানে দেয়া যাবে না। তাতেও আমরা রাজি হলাম।
সর্বশেষ সাড়ে চার হাজার মেশিন বসানো হয়েছে। যেসব দোকানে মেশিন দেয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে মেশিনের মূল্য চাওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা করে। অথচ অনলাইনে একই মেশিনের দাম দেখানো হচ্ছিলো ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। পরে এ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করার পর তিনারা দাম নির্ধারণ করলেন ১১ হাজার টাকা। এর পর আমাদের বলা হলো এনবিআর মেশিন দিতে পারবে না ব্যাসায়ীরা নিজেদের টাকায় কিনে নিতে হবে। তবে এতে প্রয়োজন মিটছে না। এতে এক ধরনের বৈপরীত্য সৃষ্টি হচ্ছে। যার দোকানে মেশিন আছে, সেখানে ভ্যাট নেওয়া হলেও সেই দোকানে কাস্টমার যাচ্ছে না। আমরা খুবই সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছি।
এফবিসিসিআই’র সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, এনবিআর আমাদের সাথে মাস্তানি করছে। যখন যা ইচ্ছে ব্যাবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। পণ্যের ওপর ইচ্ছে মতো ভ্যাট বসাচ্ছে। কিনতেও ভ্যাট দিতে হয়, বিক্রি করতেও ভ্যাট দিতে হয়। ভ্যাটের এই কালো আইন পরিবর্তন করা দরকার। না হলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে টিকে থাকতে পারবে না। ব্যবসায়ীরা এনবিআরের কাছে জিম্মি। আইন পরিবর্তন না হলে ব্যবসায়ীদের সংকট বাড়বে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, আমি ইএফডি নিয়ে বসে আছি, ব্যবসায়ীরা নিতে চাচ্ছেন না। আপনি তালিকা দিন। আমি দোকানে দোকানে মেশিন পৌঁছে দেবো। এ পর্যন্ত ৫০০টি মেশিন বিক্রি করছি। মাত্র ৩০-৪০টি মেশিনের টাকা পাওয়া গেছে। এক লাখ মেশিনের অর্ডার আছে। এ পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার ইএফডি মেশিন বসানো হয়েছে। মেশিন আমরা দিচ্ছি না এসব না বলে তালিকা পাঠিয়ে দিন।
এদিকে দোকান বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, জ্বালানী সংকট কাটাতে সরকার বিদ্যুত সাশ্রয়ের চেষ্টা করছে। যে কারণে রাত ৮টার পর দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে তো দেশের জ্বালানী সংকট কমবে না। দোকান বন্ধ থাকলেও সবকিছু চলছে আগের মতোই। রাস্তার পাশে লাল-নীল বাতি ঠিকই জ্বলছে। সেগুলো বন্ধে কোনো তদারকি নেই। যতো সমস্যা দোকানে।
হিসেব বলছে, এক ঘণ্টা দোকান বন্ধ থাকলে ক্ষতি হয় ১৬০ কোটি টাকা। মাস শেষে হিসেব দাঁড়ায় ১৬০০ কোটি টাকা। অথচ বিদ্যুতে খরচ হয় ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। সরকার ছোট ক্ষতি কমাতে গিয়ে বড় ধরণের ক্ষতি করছে। জ্বালানী তেল ডিজেল ভারতে পাচার হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভারত থেকে প্রতিদিন দেশে অন্তত ৫০০ ট্রাক প্রবেশ করছে। সেসব ট্রাকে ১০০ লিটার করে ডিজেল নিয়ে যাচ্ছে। সে হিসেবে ৫০০ ট্রাকে ৫০ হাজার লিটার ডিজেল পাচার হচ্ছে। সেদিকে নজর না দিয়ে শুধু দোকান বন্ধ করা হচ্ছে। এতে করে জ্বালানী সংকট আদৌ কাটবে বলে মনে হয় না।
এফবিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, আমা বলেছিলাম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে। অথচ সরকার দিচ্ছে পরিকল্পিত লোডশেডিং। এতে করে অনেক করাখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করা যাচ্ছে না। আমরা চাই গ্রামে লোডশেডিং বাড়িয়ে কল-কারখানায় নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ দেয়া হোক। এতে অর্থনীতি ভালো থাকবে।









