- কোরবানির গরুর ৮০ ভাগই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পবিত্র ঈদুল আযহায় কোরবানীর গরুর শতকরা ৮০ ভাগ গরুর চাহিদা পুরন করে মৌসুমী গরু ব্যবসায়ীরা। উপজেলা খামারীরা কোরবানীর জন্য গরু পালন করলেও তার চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাট থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ী গরু কিনে এসে এখানকার স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটে গরু বিক্রি করে কোরবানীর গরুর চাহিদা পূরণ করে থাকে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে সোনারগাঁ উপজেলা অধিক সংখ্যক গরু কোরবানী দিয়ে থাকেন এখানকার বাসিন্দারা। এছাড়া উপজেলাটি শিল্প এলাকা ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার লোক এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করার কারণে তারাও এখানে কোরবানি দিয়ে থাকেন। সে জন্য অন্যান্য উপজেলার তুলনায় সোনারগাঁয়ে তুলনামূলকভাবে বেশী গরু কোরবানি করা হয়। কোরবানীর জন্য বাণিজ্যিকভাবে এখানে গরুর খামার তৈরী করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় শতকরা ২০ শতাংশ মাত্র। এতে বাকি ৮০ শতাংশ গরুর জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিনে এখানকার কোরবানির গরুর চাহিদা পূরণ করে থাকেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
সোনারগাঁ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের তথ্যনুযায়ী, সোনারগাঁয়ে ছোট বড় মিলিয়ে ৯৮৪টি গরুর খামার রয়েছে। এসব খামারে ষাঁড়, গাভী, মহিষ ও ছাগল মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৬শ’ পশু রয়েছে। তবে, সোনারগাঁ উপজেলায় প্রতি বছর ঈদে প্রায় ২১ হাজার গরু ছাগল কোরবানি করা হয়। বাকি পশুগুলো দেশের বিভিন্ন হাট থেকে ব্যবসায়ীরা কিনে এনে বিভিন্ন হাটে তোলেন। তারা জানান, এবার উপজেলা স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ১৮টি হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। এসব হাটে দেশীয় গরু পাশাপাশি মৌসুমী ব্যবসায়ী গরুর যোগান দিয়ে থাকেন।
গরু ব্যবসায়ী আবু বক্কর জানান, তার নিজের একটি খামার রয়েছে। তার খামারে এবার তিনি ৬টি গরু তৈরী করছেন কোরবানীর জন্য। তার খামার ছাড়াও তিনি সিরাজগঞ্জ হাট থেকে আরো ১০টি গরু কিনে এনেছেন স্থানীয় হাটে বিক্রি করার জন্য। তিনি জানান, প্রতি বছরই তিনি তার পালিত গরুর সঙ্গে অন্য এলাকা থেকে গরু কিনে এনে বিক্রি করেন। এতে তার মোটামুটি ভালো টাকা লাভ হয়। সেজন্য নিজের খামারের সঙ্গে বাহিরের গরু কেনেন।
মোগরাপাড়া কলেজ মাঠের ইজারাদার সাইফুল ইসলাম বাবু জানান, আমাদের এলাকায় উল্লেখযোগ্য তেমন গরুর খামার নেই। তারপর আমাদের হাটটি উপজেলা কয়েকটি হাটের মধ্যে সেরা। এখানে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারীরা গরু নিয়ে আসেন। আমরা ইজারাদার হিসেবে খামারীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করি। এছাড়া হাটে গরু বিক্রি করে খামারীরা প্রতি বছরই মোট অংকের লাভ পান সেজন্য তারা এখানে নিয়ে আসতে আগ্রহ পোষন করেন। শুরু আমাদের হাট নয় উপজেলা প্রতিটি হাটেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু আসে।









